খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপির মানববন্ধন

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপির মানববন্ধন

 

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করছে বিএনপি। বিএনপির শীর্ষ নের্তৃবৃন্দসহ কর্মসূচীতে অংশ নিয়েছে ২০ দলীয় জোটের নেতা-কর্মীরা।

সোমবার বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি চলবে। রবিবার দুপুরে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

এদিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে দলের মানববন্ধন কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি তৎপরতা লক্ষ্য চোখে পড়ার মতো।

এ কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি তৎপরতা লক্ষ করা গেছে। তবে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিএনপির এই কর্মসূচিতে কোনো বাধা দেয়নি।

সেখানে উপস্থিত হয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, বাংলাদেশ লেবার পার্টির সভাপতি ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, আবদুল আউয়াল মিন্টু, বরকত উল্লাহ বুলু, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক সাবেক সংসদ সদস্য শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক ফুটবলার আমিনুল ইসলাম প্রমুখ। তাঁরাও বক্তব্য দিচ্ছেন।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আজ সোমবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এই কর্মসূচি পালিত হবে। তার আগে সকাল ৯টার দিকে রাজধানীর নয়াপল্টনের বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে রাখা হয়েছে মহানগর পুলিশের এপিসি, জলকামান ও প্রিজনভ্যান।

এছাড়া বিএনপির ডাকা কর্মসূচি ঘিরে ভোর থেকেই জাতীয় প্রেসক্লাব ও আশপাশের এলাকায় বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ। পুলিশের পাশাপাশি মাঠে রয়েছে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা।

এবিষয়ে জানতে চাইলে শাহবাগ থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) জাফর আলী বিশ্বাস বলেন, এটা কোনো বিশেষ ডিউটি না। এটা আমাদের রুটিন ওয়ার্ক। তবে প্রয়োজন বুঝে ফোর্স কমবেশি হয়।

অন্যদিকে পুলিশের মতিঝিল জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) আরিফ হোসেন বলেন, ‘এটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। আর যেহেতু আজ বিএনপি ও ২০ দলের একটা কর্মসূচি আছে, তাই একটু সতর্কতা।’

আরিফ হোসেন আরো বলেন, ‘নগরবাসীর জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পুলিশের। আর সে জন্য বাড়তি এ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে, যাতে কেউ আন্দোলনের নামে নাশকতা করতে না পারে।’

খালেদা জিয়ার সাজার প্রতিবাদে এরপর গত শুক্রবার বাদজুমা দেশব্যাপী বিক্ষোভ করে দলের নেতাকর্মীরা। এর পরদিন গত শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। গত রবিবার ২০ দলের জোটের সভাতেও কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়।

এই কর্মসূচি শুরু হচ্ছে আজ সোমবার থেকে। আজ ঢাকা মহানগরসহ সারা দেশে জেলা, মহানগর, থানা ও উপজেলায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হবে।

আগামীকাল মঙ্গলবার ঢাকা মহানগরসহ সারা দেশে জেলা, মহানগর, থানা ও উপজেলায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি।

শেষের দিন আগামী বুধবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ঢাকা মহানগরসহ সারা দেশে জেলা, মহানগর, থানা ও উপজেলায় অনশন কর্মসূচি পালিত হবে।

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে পুরান ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ডাদেশ এবং দুই কোটি ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

প্রসঙ্গত, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত ০৮ ফেব্রুয়ারি দুপুর আড়াইটায় রাজধানীর বকশীবাজারের আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫ নং বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামান খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করেন। রায়ে তারেক রহমানসহ বাকিদের ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায় ঘোষণার পর ওই দিনই কড়া নিরাপত্তায় খালেদা জিয়াকে ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই আছেন।

সম্পর্কিত সংবাদ
নিজস্ব প্রতিবেদক