২৪৪ রান তাড়া করে জিতে অস্ট্রেলিয়ার রেকর্ড

২৪৪ রান তাড়া করে জিতে অস্ট্রেলিয়ার রেকর্ড

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে কোনো রানই নিরাপদ নয়। সেটা যেন আরো একবার চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিল অস্ট্রেলিয়া। মার্টিন গাপটিলের ১০৫ ও কলিন মানরোর ৭৬ রানের ঝোড়ো ইনিংস বৃথা গেল।

আজ শুক্রবার ট্রান্স-তাসমান ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজেদের শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ড আজ মুখোমুখি হয় অস্ট্রেলিয়ার। এই ম্যাচে জিততে পারলে ফাইনালে উঠতে পারত তারা। কিন্তু ২৪৩ রান করেও জয় পায়নি ব্ল্যাক ক্যাপসরা। তাদের ছুড়ে দেওয়া ২৪৪ রানের টার্গেট ৭ বল হাতে রেখেই ছুঁয়ে ফেলে অস্ট্রেলিয়া। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট ইতিহাসে যা সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড। এর আগে এতো রান তাড়া করে জয় পায়নি কোনো দল।

নিজিল্যান্ড এদিন টস জিতে আগে ব্যাট করতে নামে। উদ্বোধনীতে মার্টিন গাপটিল ও কলিন মুনরো যোগ করেন ১৩২ রান। সেটিও মাত্র ১০.৪ ওভারে, মানে ৬৪ বলে!

মূর্তিকারিগর

মুনরোর বিদায়ে ভাঙে জুটি। ৬টি করে চার-ছক্কার ইনিংসটি ৩৩ বলে ৭৬ রানের। ২৩০.৩০ স্ট্রাইকরেটের ইনিংস।

গাপটিল থামেন সেঞ্চুরি তুলেই। ৪৯ বলে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টি-টুয়েন্টি সেঞ্চুরি তুলে নেন, তখন ৬ চারের সঙ্গে ছিল ৯ ছক্কার মার। শেষ অবধি ৫৪ বলে ১০৫ রানে থেমেছে গাপটিল ঝড়, ১৯৪.৪৪ স্ট্রাইকরেটের ইনিংস। বলের হিসেবে টি-টুয়েন্টিতে এটি নবম দ্রুততম সেঞ্চুরি। দ্রুততমটি ৩৫ বলের, গত বছর বাংলাদেশের বিপক্ষে ডেভিড মিলার ঝড় তুলেছিলেন যেদিন।

শেষদিকে রান তোলার তাড়ায় দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারায় কিউইরা। সেইফের্ট ১২, চ্যাপম্যান ১৬, টেলর অপরাজিত ১৭ করে আড়াই ছুঁইছুঁই সংগ্রহ এনে দেন।

জবাব দিতে নেমে অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনার ওয়ার্নার এবং ডি’আর্চি শর্ট ৮.৩ ওভারে ১২১ রান তোলেন! তখন ২৪ বলে ৫৯ রান করে ফিরে যান ওয়ার্নার। চার চারটি, ছয় পাঁচটি। ম্যাচসেরা আর্চি ৪৪ বলে ৭৬ করেন। তিন ছয়ের পাশাপাশি আটটি চার হাঁকান তিনি। মিডলঅর্ডারে ম্যাক্সওয়েল ১৪ বলে ৩১ রান করে ফিরে যান। তার ইনিংসে ছয় দুটি, চার তিনটি। এরপর ফিঞ্চ ১৪ বলে ৩৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে ম্যাচ শেষ করেন। তিনি তিনটি করে ছয়, চার মারেন।

এই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া জয় পাওয়ায় ইংল্যান্ডের ফাইনাল আশা টিকে থাকল। তিন ম্যাচে এক জয় নিয়ে পয়েন্ট টেবিলে নিউজিল্যান্ড দ্বিতীয়। তিনটির সবকটিতে হেরে ইংল্যান্ড তিন নম্বরে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ফল: পাঁচ উইকেটে জয়ী অস্ট্রেলিয়া।

নিউজিল্যান্ড ইনিংস: ২৪৩/৬ (২০ ওভার)

(মার্টিন গাপটিল ১০৫, কলিন মুনরো ৭৬, টিম সেইফার্ট ১২, মার্ক চ্যাপম্যান ১৬, কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম ৩, রস টেইলর ১৭*, কেন উইলিয়ামসন ১, বেন হুইলার ১*; বেন হুইলার ২/৪০, বিলি স্ট্যানলেক ১/৪৩, অ্যান্ড্রু টাই ২/৬৪, মার্ক স্টয়নিস ০/৫০, অ্যাশটন আগার ১/২৪, ডি’আর্কি শর্ট ০/১৯)।

অস্ট্রেলিয়া ইনিংস: ২৪৫/৫ (১৮.৫ ওভার)

(ডেভিড ওয়ার্নার ৫৯, ডি’আর্কি শর্ট ৭৬, ক্রিস লিন ১৮, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ৩১, অ্যারোন ফিঞ্চ ৩৬*, মার্কাস স্টয়নিস ৪, আলেক্স ক্যারি ১*; ট্রেন্ট বোল্ট ১/৪২, বেন হুইলার ০/৬৪, টিম সাউদি ১/৪৮, ইশ সোধি ১/৩৫, কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম ১/৫৬)।

প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ: ডি’আর্কি শর্ট (অস্ট্রেলিয়া)।

*রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন*
সম্পর্কিত সংবাদ
Leave a reply
ডেস্ক রিপোর্ট