টাইব্রেকারে সেমিতে রোনালদোর পর্তুগাল

টাইব্রেকারে সেমিতে রোনালদোর পর্তুগাল

পোল্যান্ডকে টাইব্রেকারে হারিয়ে ইউরো কাপের সেমিফাইনালে উঠেছে পর্তুগাল। বৃহস্পতিবার রাতে অনুষ্ঠিত ম্যাচটির নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের খেলা ১-১ গোলে শেষ হলে টাইব্রেকারে রোনালদোরা জিতেছে ৫-৩ গোলে।

প্রথম চার ম্যাচে নিজেকে খুঁজে ফেরা লেভানডফস্কি শুরুতেই জ্বলে ওঠেন। দ্বিতীয় মিনিটে বাঁ-দিক থেকে মিডফিল্ডার কামিল গ্রোসিস্কির বাড়ানো ক্রস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ১২ গজ দূর থেকে ডান পায়ের জোরালো শটে দলকে এগিয়ে দেন বায়ার্ন মিউনিখের এই স্ট্রাইকার। ১ মিনিট ৪০ সেকেন্ডের মাথায় করা লেভানডফস্কির গোলটি ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ইতিহাসে দ্বিতীয় দ্রুততম গোল। দ্রুততম গোলের রেকর্ডটি রাশিয়ার দিমিত্রি কিরিচেঙ্কোর দখলে৷ ২০০৪ সালে গ্রিসের বিপক্ষে ৬৫ সেকেন্ডে গোলটি করেছিলেন তিনি। দশম মিনিটে ডি’বক্সে বল পেয়েছিলেন রোনালদো৷কিন্তু সামনে থাকা এক ডিফেন্ডারের গায়ে বল মেরে সুযোগটা নষ্ট করেন সিআর সেভেন। ২৮ মিনিটে ডি’বক্সের অনেকটা বাইরে থেকে দূরপাল্লার শটে চেষ্টা করে ব্যর্থ হন তিনি। তিন মিনিট পর পোলিশ ডিফেন্ডার মিখাল পাজদান নিজেদের ডি বক্সে রোনালদোকে পিছন থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলে পেনাল্টির জোরালো আবেদন করে পর্তুগাল৷ তবে রেফারি আবেদনে সাড়া দেননি।

কিছুক্ষণ পরেই অবশ্য কাঙ্ক্ষিত গোল পেয়ে যায় পর্তুগিজরা। ডি’বক্সের ঠিক বাইরে থেকে রেনাতো স্যাঞ্চেসের জোরালো শট পোলিশ মিডফিল্ডার ক্রিখোভিয়াকের পায়ে লেগে দিক পাল্টে জালে জড়ায়। আগামী মৌসুমে বায়ার্নে যোগ দিতে যাওয়া ১৮ বছর বয়সি স্যাঞ্চেসের এটাই প্রথম আন্তর্জাতিক গোল। এই ম্যাচ দিয়েই দেশের পক্ষে সর্বকনিষ্ট খেলোয়াড় হিসেবে বড় প্রতিযোগিতার কোনও ম্যাচে প্রথম একাদশে খেলতে নামলেন এই মিডফিল্ডার। ২০০৪ সালের ইউরোয় আগের রেকর্ডটি গড়েছিলেন রোনালদো।

৫৬ মিনিটে বাঁ-দিক দিয়ে ডি বক্সে ঢুকে পড়েন রোনাল্ডো৷ বক্সের সামনে সতীর্থ জোয়াও মারিও গোল করার মতো অবস্থায় ছিলেন৷ কিন্তু তাঁকে পাস না দিয়ে নিজেই শট নেন পর্তুগিজ অধিনায়ক৷ বল লাগে পাশের জালে। ৬৮তম মিনিটে ছ’ গজ বক্সের মধ্যে আরকাদিউস মিলিকের দুরূহ কোণ থেকে করা ভলি বাঁ-দিকে ঝাঁপিয়ে বাঁচান পর্তুগিজ গোলরক্ষক।

৮০তম মিনিটে নিজেদের ভুলেই গোল খেতে বসেছিল পোল্যান্ড। ডি’ বক্সে রোনাল্ডোকে লক্ষ্য করে পেপের বাড়ানো বল রুখতে পা-লাগান ডিফেন্ডার আর্তুর৷বল গোলের দিকেই যাচ্ছিল৷ শেষ পর্যন্ত পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে গেলে হাঁফ ছেড়ে বাঁচে পোলিশরা। ৮৬তম মিনিটে ম্যাচের সবচেয়ে সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেন রোনালদো। অফ-সাইড ফাঁদ ভেঙে দারুণভাবে বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি। কিন্তু গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে পাঠাতে গিয়ে বলে স্পর্শই করতে পারেননি পর্তুগালের অধিনায়ক। অতিরিক্ত সময়ের শুরুতে আবার পর্তুগিজদের হতাশ করেন সিআর সেভেন। ডি বক্সের ভেতরে আরেকটি চমৎকার পাসে দলকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ আসে তাঁর সামনে। তবে এবারও বল স্পর্শ করতে পারেননি। এরপর আরও কয়েকবার সরাসরি ম্যাচ জয়ের সুযোগ এসেছিল দু’দলের খেলোয়াড়দের সামনেই। কিন্তু কোনও দলের খেলোয়াড়রাই তা কাজে লাগাতে পারেননি। তাই খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট