বোলারদের মানসিকতা নিয়ে কাজ করছেন ওয়ালশ

বোলারদের মানসিকতা নিয়ে কাজ করছেন ওয়ালশ

২০১৫ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার নেপথ্যে পেস ত্রয়ীর বোলিং কম্বিনেশন। হোমে যেখানে এক সময় একাধিক পেস বোলারকে নিয়ে খেলার দু:সাহস পায়নি, স্পিন নির্ভর দল বানিয়ে সন্তুস্ট থেকেছে নির্বাচক মন্ডলী, সেখানে ২০১৫ এবং ২০১৬ সালে ৪ পেস বোলারকে একাদশে রেখে প্রতিপক্ষকে হতভম্ব করেছে বাংলাদেশ। এই স্ট্রাটেজিতেই বাংলাদেশ দল পাকিস্তান,ভারত,দক্ষিন আফ্রিকার মতো ক্রিকেট পরাশক্তিদের বিধ্বস্ত করেছে। অথচ, সেই পেস বোলিং ডিপার্টমেন্টকে সর্বশেষ ২টি টি-২০ সিরিজে বড়ই নির্বিষ দেখিয়েছে। সর্বশেষ ৪টি টি-২০ সিরিজের ২টিতে প্রতিপক্ষ ২২৪/৪ এবং ২১০/৪ স্কোর করেছে, অন্য দু’টির একটিতে ১৯৫/৪, অন্যটিতে বাংলাদেশের ১৯৩/৫ স্কোরের জবাব দিয়েছে ৬ উইকেটে জিতে,তাও আবার ২০ বল হাতে রেখে ! এই ৪টি ম্যাচে বাংলাদেশ বোলারদের ম্যাচ প্রতি গড় খরচ ২০৫.৭৫, ওভারপ্রতি ১০ রানের উপর।

বাংলাদেশ পেস বোলিং ইউনিটকে যেভাবে উপস্থাপন করেছেন বাংলাদেশ দলের সাবেক বোলিং কোচ হিথ স্ট্রিক, সেই সুনামটা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে উইন্ডিজ লিজেন্ডারী পেস বোলার কোটনি ওয়ালশের আমলে। সামনে অপেক্ষা করছে নিদহাস কাপ। শ্রীলংকার এই টি-২০ ট’র্নামেন্টে পেস বোলাদের ফর্মে ফিরিয়ে আনতে তাই ওয়ালশের উপর জারি হয়েছে নির্দেশ, পেস বোলারদের নিয়ে অনুশীলন ক্যাম্প আয়োজন কওে বোলারদের দক্ষতা এবং সামর্থের সেরাটা দেখতে চায় বিসিবি। মাসে ১৪ হাজার মার্কিন ডলার বেতনে চুক্তিবদ্ধ বোলিং পরামর্শক কোটনি ওয়ালশ নিজেও তা করছেন উপলদ্ধি-‘ আমরা বোলারদের মধ্যে সেই ধারাবাহিকতা দেখতে পারিনি বলেই এই ক্যাম্পে তার উপর চোখ রাখছি। আসন্ন সফরে তাদেরকে কি ভুমিকা রাখতে হবে, তা বুঝতে হবে। ’

ফাস্ট বোলাররা নিজেদের উপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছে, সে কারনেই বোলারদের মানসিকতা নিয়ে কাজ করাকেই দিচ্ছেন গুরুত্ব ওয়ালশ-‘আমরা এই ক্যাম্পে বোলারদের মানসিকতা নিয়ে কাজ করছি। তারা তাদের উপর বিশ্বাস স্থাপন করবে, এটাই স্বাভাবিক। সর্বশেষ সিরিজে এটাই আমার মূল্যায়ন। তাদেরকে আরো কঠোর চেস্টা করতে হবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী সেরাটা দিতে জানতে হবে, এবং মাঠে তা প্রয়োগ করতে হবে। তারা যদি তা ধারাবাহিকভাবে করতে পারে, তাহলে ১০ বারের মধ্যে ৮বারই তাদের পক্ষে থাকবে সব কিছু। সেই ধারাবাহিকতার চেস্টাই করছি।  ফাস্ট বোলিংয়ের জন্য কতোটা কস্ট করতে হয়, তা বুঝতে পারবে তারা এই ক্যাম্প থেকে। ’

চস্পকা রমানায়েকের আবিস্কার রুবেল হোসেন,হিথ স্ট্রিক সেখানে নেট বোলার মুস্তাফিজুরকে বাংলাদেশের সেরা পেস অস্ত্র হিসেবে দিয়েছেন বিসিবিকে উপহার। কিন্তু কোটনি ওয়ালশ একজন নুতন পেস বোলারের সন্ধান দিতে পারেননি। দায়িত্বের দেড় বছরের মাথায় এসে ওয়ালশ তাই বিসিবি’র পরীক্ষার মুখোমুখি। শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া ৯ দিনের অনুশীলন ক্যাম্পে বেশ ক’জন নুতন মুখ পেয়েছেন, তাদের উপর চোখ রাখতে হচ্ছে তাকে-‘ এই প্রথম আমি ক’জন নুতনকে ঠিকমমো দেখতে পারছি। আগামী দিনগুলোতে প্রত্যেকের জন্য আলাদা আলাদা কাজ দিব। তাতেই তারা উন্নতি করতে পারবে। তারা যদি কোন ডিপার্টমেন্টে দুর্বল হয়, তা নিয়ে আমরা কাজ করব। তারা যদি কোন ডিপার্টমেন্টে শক্তিশালী হয়,তাহলে তাদেরকে আরো শক্তিশালী করব। দিন শেষে আমি বাংলাদেশে এসেছি তাদের কাছ থেকে সেরাটা আদায় করতে। সে কারনে বোলারদের আরো ধারাবাহিক হতে হবে।’

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট