বাগদাদে বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২১৩

বাগদাদে বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২১৩

ইরাকের রাজধানী বাগদাদে রোববার আলাদা দু’টি আত্মঘাতী হামলার ঘটনায় ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২১৩ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। হামলাকারীরা বাগদাদের শিয়া-অধ্যুষিত কারাদায় বিস্ফোরকবাহী লরিতে বিস্ফোরণ ঘটায় বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তারা। শিয়াদের ওপর একর পর এক হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর গাফিলতিকে দায়ী করা হচ্ছে।

এদিকে, রোববার ঘটনাস্থল পরির্দশনে গিয়ে জনতার তোপের মুখে পড়েন ইরাকি প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল আবাদি।

নিহতদের স্মরণে রোববার সন্ধ্যায় কারাদার হামলাস্থলে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করে শত শত শিয়া।

মোমবাতি প্রজ্বলন করে নিহতদের স্মরণ করা হয়। এতো মানুষের মৃত্যু শিয়া মুসলিমদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

এক ব্যক্তি বলেন, জঙ্গিরা শবে কদরের রাতে নিরীহ মানুষের ওপর হামলা চালিয়েছে। ঈদের কেনা-কাটার বদলে লাশের জন্য কফিন কিনতে হচ্ছে আমাদের। এর শেষ কোথায়?

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে বাগদাদের শিয়া-অধ্যুষিত এলাকা কারাদার রাস্তার পাশের দোকানগুলো সারা রাত খোলা ছিলো। আর জঙ্গিরা হামলার জন্য এমন জনাকীর্ণ স্থানকেই বেছে নেয়। বিস্ফোরকবাহী একটি লরিতে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটায় হামলাকারীরা। ঘটনাস্থলেই নারী ও শিশুসহ অর্ধশতাধিক মানুষ নিহত হয়।

শক্তিশালী বোমার বিস্ফোরণে আশপাশের ভবনগুলোতে আগুন ধরে যাওয়ায় হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে বলে জানিয়েছে গণমাধ্যম। কয়েক ঘণ্টা পর আগুন নেভানো সম্ভব হলেও, এখনও ওই ভবনগুলো থেকে সবাইকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। সেখানে আরও মরদেহ থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কারাদার হামলার পরই বাগদাদের পূর্ব দিকের আরও একটি শিয়া-অধ্যুষিত অঞ্চল আল-শাবাবে আত্মঘাতী হামলায় ঘটনাস্থলেই ৫ জন নিহত হয়। বাগদাদের এ জোড়া হামলার ঘটনায় শোক প্রকাশ করে রোববার থেকে ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেন ইরাকি প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল আবাদি। এদিন ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে নিরাপত্তা-শঙ্কায় উদ্বিগ্ন জনতার তোপের মুখে পড়েন ইরাকি প্রধানমন্ত্রী।

বাগদাদের শিয়া-অধ্যুষিত কয়েকটি এলাকায় এর আগেও আত্মঘাতী হামলা হয়েছে। সরকার শিয়াদের নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনীর গাফিলতিকেও দুষছেন শিয়া মুসলিমরা। তবে, আইএস-বিরোধী লড়াইয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে নিরাপত্তা বাহিনীর বেশিরভাগ সদস্য ব্যস্ত থাকায় নিরাপত্তায় জনবল কম বলে জানান সেনা কর্মকর্তারা।

ইরাকি প্রতিরক্ষা বাহিনী মেজর জেনারেল কাদিম শাহ বলেন, ‘আমরা আইএসের বিরুদ্ধে একের পর এক সাফল্য পাচ্ছি, যুদ্ধক্ষেত্রে পরাজিত হয়ে সাধারণ মানুষকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে আইএস।’

ইরাকের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে আইএসের আধিপত্য থাকলেও রাজধানী বাগদাদের আবাসিক এলাকাগুলো তুলনামূলক নিরাপদেই ছিলো। দু’একটি আত্মঘাতী হামলা হলেও এর আগে একদিনে এতো প্রাণহানি দেখেনি শহরটির বাসিন্দারা।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট