সন্ত্রাসবাদ দমনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে স্বাগত জানাবে বাংলাদেশ

 সন্ত্রাসবাদ দমনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে স্বাগত জানাবে বাংলাদেশ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানিয়েছেন, জঙ্গি কার্যক্রম প্রতিরোধে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এক্ষেত্রে প্রতিবেশী ও বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর প্রয়োজনীয় সহযোগিতা গ্রহণ করবে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার বিকেলে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গত শুক্রবার সন্ধ্যার পর অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা এলোপাতাড়ি গুলি করতে করতে গুলশান-২ নম্বর সেক্টরে হলি আর্টিজান বেকারিতে প্রবেশ করে। প্রথমে টহল পুলিশ তাদের চ্যালেঞ্জ করে। পরে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী সেখানে হাজির হয়। সন্ত্রাসীরা তখন গ্রেনেড নিক্ষেপ ও গুলি করে।

দেশের ভেতরে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি এ হামলার উদ্দেশ্য ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ‘জঙ্গি সংগঠনগুলো দেশের শিক্ষিত তরুণদের বিপথগামী করছে। তাই দেশের সর্বস্তরের জনগণকে সম্পৃক্ত করে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।’

তিনি জানান, রাজধানীর হলি আর্টিজান বেকারিতে কমান্ডো অভিযানে নিহত সন্ত্রাসীরা সবাই বাংলাদেশি। তারা স্থানীয় বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ছিল।

সংবাদ সম্মেলনে হামলার ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তড়িৎ সিদ্ধান্তে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

এ সময় তিনি জানান, হলি আর্টিজানে সন্ত্রাসীদের হাতে নিহতদের মধ্যে ৯ জন ইতালীয়, ৭ জন জাপানি, একজন ভারতীয়, দুই জন বাংলাদেশি এবং একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান। কমান্ডো অভিযানের মাধ্যমে ১৩ জনকে জিম্মি অবস্থা থেকে মুক্ত করা হয় বলে জানান তিনি।

তিনি জানান, যৌথ কমান্ডো অভিযানে ৬ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হয়। এদের মধ্যে ৫ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। পরিবার তাদের শনাক্ত করেছে।

রাজধানীর হলি আর্টিজান বেকারিতে কমান্ডো অভিযানে নিহত সন্ত্রাসীরা সবাই বাংলাদেশি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. মোজাম্মেল হক খান, আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, র‌্যাবের ডিজি বেনজীর আহমেদ, ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সম্পর্কিত সংবাদ
নিজস্ব প্রতিবেদক