ফাইনালে রোনালদোর পর্তুগাল

ফাইনালে রোনালদোর পর্তুগাল

রূপকথার স্বপ্ন নিয়েই মাঠে নেমেছিল ওয়েলস। কিন্তু সেই স্বপ্নকে গুঁড়িয়ে দিয়ে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে পর্তুগাল। টুর্নামেন্টের প্রথম সেমিফাইনালে বেলের ওয়েলসকে ২-০ গোলে হারিয়েছে রোনালদোর পর্তুগাল। এই নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ইউরোর ফাইনালে উঠল দলটি। দলটির দুর্দান্ত এই জয়ে একটি করে গোল করেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও নানি।

আগামী ১০ জুলাই সাঁ-দেনিতে ইউরো ফাইনালে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় দ্বিতীয় সেমিফাইনালে জার্মানি ও ইতালির মধ্যে জয়ী দলের বিপক্ষে লড়বে পর্তুগাল।

ফ্রান্সের লিওঁতে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় শুরু হওয়া ম্যাচের প্রথম থেকে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে খেলতে থাক ওয়েলস ও পর্তুগাল। যদিও প্রথমার্ধে দুই দলই গোল করার বেশ কয়েকটি সুযোগ পেলেও ব্যর্থ হয়।

ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে ওয়েলসের জালে বল জড়ানোর ভালো একটি সুযোগ পেয়েও হাতছাড়া করেন পর্তুগিজ তারকা রোনালদো। এদিকে ম্যাচের ১০ মিনিটে কার্ডিকের ক্রসে মাথা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হলে আরো একটি গোলে সুযোগ নষ্ট করেন রিয়াল মাদ্রিদের তারকা এই স্ট্রাইকার।

ম্যাচের ১১ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে যায় ওয়েলস। সতীর্থদের বাড়ানো বলে গ্যারেথ বেলের দূর পাল্লার শট প্রতিপক্ষের গোল বারের উপর দিয়ে চলে যায়। এরপর ম্যাচের ১৮ মিনিটে প্রথম কর্নার পায় ওয়েলস। জো অ্যানালের কর্নার শটে বল নিজের দখলে নেন বেল। সেই বলে জোরাল শট এবার লক্ষ্যভ্রষ্ট। যে কারণে গোল পাওয়া হয়নি দলটির।

এদিকে ম্যাচের ২২ মিনিটে ডানপ্রান্ত দিয়ে একক প্রচেষ্টায় পর্তুগালের ডি-বক্সের বাইরে থেকে জোরাল শট নেন বেল। কিন্তু সেই বল সরাসরি চলে যায় পর্তুগাল গোলরক্ষক রুই প্যাটরিকোর হাতে। প্রথমার্ধের বাকি সময়ে গোল করার বেশ কয়েকটি সুযোগ পেলেও হাতছাড়া করে দুই দলই। যে কারণে গোল শুন্য থেকে বিরতিতে যেতে হয় রোনালদো-বেলদের।

মধ্যবিরতি থেকে ফিরে গোলের নেশায় পেয়ে বসে পর্তুগালের। সুযোগও আসে দলটির সামনে পাঁচ মিনিট পরই। ম্যাচের ৫০ মিনিটে কর্নার থেকে বল পেয়ে রাফেল গিরিরিয়োর ভাসাল ক্রসে মাথা ছুঁয়ে গোল করে সমর্থকদের আনন্দে ভাসান পর্তুগিজ অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।

এরপর আবারো গোল আনন্দে মাতে পর্তুগাল। ম্যাচের ৫৩ মিনিটে রোনালদোর জোরাল শটে পা ছুঁয়ে ওয়েলসের জালে বল জড়ান পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড নানি। তাতেই ২-০ গোলে এগিয়ে যায় দলটি।

এদিকে ম্যাচের ৬২ মিনিটে একক প্রচেষ্টায় ওয়েলসের ডি-বক্সে বল নিয়ে যেতে চাইলে রোনালদোকে অবৈধভাবে বাধা দেন জেমস চেস্টার। যে কারণে হলুদ কার্ড দিয়ে এই সেন্টার ব্যাককে সর্তক করেন রেফরি। এরপর ফি-কিক নেন রোনালদো। কিন্তু পর্তুগিজ অধিনায়কের জোরাল শট চলে যায় প্রতিপক্ষের গোল পোস্টের উপর দিয়ে।

দ্বিতীয়ার্ধে ০-২ গোলে পিছিয়ে পড়ে খেলায় ফিরতে মরিয়া হয়ে উঠে ওয়েলস। ম্যাচের ৭৮ মিনিটে গ্যারেথ বেলের গোল করার চেষ্টাকে ব্যর্থ করে দেন পর্তুগিজ রক্ষণভাগের খেলোয়াড় দানিলো। এরপর নির্ধারিত সময়ে আরও বেশ কয়েকটি গোলের সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি দলটির ফরোয়ার্ড।

এদিকে ম্যাচের শেষ পর্যন্ত দুর্দান্ত খেলে পর্তুগাল। রোনালদো, নানি, সানচেজরা প্রতিপক্ষের রক্ষণে একের পর এক আক্রমণ করতে থাকে। ভাগ্য ভালো হলে গোল সংখ্যাটা বাড়তে পারত দলটির। কিন্তু সেটা না হলেও শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলে জিতে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে খেলা নিশ্চিত করে মাঠে ছাড়ে তারা।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট