বাংলাদেশে কোনোদিনই জঙ্গিবাদ ঠাঁই পাবেনাঃ প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশে কোনোদিনই জঙ্গিবাদ ঠাঁই পাবেনাঃ প্রধানমন্ত্রী

যারা ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করছে তাদেরকে ইসলামের শত্রু উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, ধর্মের দোহাই দিয়ে এসব মানুষ ঈদের জামায়াতে বোমা হামলা করে ইসলামকে কলুষিত করছে।

বৃস্পতিবার সকালে গণভবনে সর্বস্তরের মানুষের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করে এ মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। এসময়, বাংলাদেশে কোনোদিনই জঙ্গিবাদ ঠাঁই পাবেনা উল্লেখ করে তিনি আরো জানান, কোনো আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী এসবের সাথে জড়িত থাকলে তার দায়ও তাদেরকেই নিতে হবে।

ঈদের আমেজে সরকার প্রধানের বাসভবন গণভবনের ফটক খোলা ছিলো সমাজের সর্বস্তরের মানুষের জন্য। ধনী-গরিব ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই ছুটে যান সরকার প্রধানকে ঈদ শুভেচ্ছা জানাতে।

সকাল সাড়ে নয়টায় দলের নেতা-কর্মীদের মাধ্যমেই শুরু হয় শুভেচ্ছা পর্ব। এসময় সর্বস্তরের মানুষ শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা জানালে তিনিও সবাইকে হাতনেড়ে ঈদ শুভেচ্ছা জানান।

পরে সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি জানান, ধর্মের দোহাই দিয়ে যারা বিভিন্ন জায়গায় মানুষের ওপর হামলা করছে তারা ইসলামেরই শত্রু। তাদের হাত থেকে দেশকে রক্ষায় যা যা করার সব করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, “নামাজ না পড়ে সেখানে মানুষ হত্যা করতে যাওয়া, তারাবি নামাজ না পড়ে মানুষকে খুন করা- এটা কোন ধরনের  ইসলাম রক্ষা করা?

“বা যেখানে ঈদের জামাত হবে, তা কাছাকাছি জায়গায় হঠাৎ আমাদের আইনশঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা…।  এই ধরনের জঘন্য ঘৃণ্য অপরাধ যারা করে থাকে, তারা আদতে ইসলামে বিশ্বাস করে না, তারা ইসলামে শত্রু।”

“তারা শরিয়া আইন কায়েম করবে। মানুষের আইন চলবে না। তারা ফেইসবুক ব্যবহার করছে, মোবাইল ব্যবহার করছে- এগুলো মানুষেরই তৈরি।

“মানুষের তৈরি আইন মানবেন না, আর মানুষের তৈরি করা জিনিস ব্যবহার করবে। মানুষের তৈরি করা অস্ত্র ব্যবহার করবে, আর মানুষের তৈরি আইন মানবে না। এটা কী জাতীয় কথা!”

এসময় কারো সন্তান নিখোঁজ হয়ে থাকলে তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সে ব্যাপারে তথ্য সরবরাহের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

অভিভাবকদের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এ বিষয়ে আরও সজাগ হওয়ার তাগিদ দিয়ে শেখ হাসিনা ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের বলেন, “বাবা-মা, ইউনিভার্সিটি-কলেজকে বলব, যারা মিসিং তাদের নাম, ফটো, তালিকা দিতে হবে।

“আমরা জেনেছি, বেশ কিছু কলেজ ও ইউনিভার্সিটির ছাত্ররা মিসিং। জিডি করে বসে থাকবেন না। তথ্য প্রকাশ করেন। ছবি দিন।”

নিখোঁজ তরুণদের খোঁজ বের করতে সকল প্রচার মাধ্যম ব্যবহার করার কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “টিভি, রেডিও, মোবাইল সব ব্যবহার করে আহ্বান জানানোর ব্যবস্থা আমরা করে দেব।ঘৃণ্য অপরাধের পথ ছেড়ে, ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে আসতে আহ্বান জানান।

“তাদের চিকিৎসা থেকে শুরু করে যা লাগে সে ব্যবস্থা আমরা করতে পারব। পৃথিবীতে বাংলাদেশ একমাত্র দেশ অতি অল্প সময়ে এখানে জঙ্গিদের খতম করতে পেরেছি।”

দেশব্যাপী এলাকায় এলাকায় কমিটি গঠন করে এসব ঘটনা প্রতিহত করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন- কোনো আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী এর সাথে সম্পৃক্ত থাকলে তার দায় তাদের ওপরই বর্তাবে।

ইউনিয়ন ও জেলা-উপজেলায় সন্ত্রাসবিরোধী কমিটি করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কারা বিপথে গেছে, কারা জঙ্গির সাথে সংশ্লিষ্ঠ সেই তথ্য দেন। আমরা দেশবাসীর পাশে আছি।”

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার আগে প্রধানমন্ত্রী সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। অনুষ্ঠান শুরু হয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের শুভেচ্ছা জানানোর মধ্য দিয়ে। পরে বিচারপতি ও কূটনীতিকদের সঙ্গেও তিনি শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

অনুষ্ঠানের পর অতিথিদের আপ্যায়িত করা হয়।

সম্পর্কিত সংবাদ
নিজস্ব প্রতিবেদক