সন্ত্রাসবাদ এবং জঙ্গিবাদকে শক্তভাবে মোকাবিলার আহবান খালেদা জিয়ার

সন্ত্রাসবাদ এবং জঙ্গিবাদকে শক্তভাবে মোকাবিলার আহবান খালেদা জিয়ার

সন্ত্রাসবাদ এবং জঙ্গিবাদকে সরকার শক্তভাবে মোকাবিলা না করলে চলমান পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া।

বৃস্পতিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে এ কথা বলেন তিনি। বেগম জিয়া আবারও জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহবান জানান।

সর্বস্তরের মানুষের সাথে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করতে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আসেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। আগে থেকেই সেখানে উপস্থিত ছিলেন দলের শীর্ষ নেতারা।

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সেখানে শুরু হয় শুভেচ্ছা বিনিময়। শুরুতেই বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া ব্লুম বার্নিকাটসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা একে একে বেগম জিয়ার সাথে কুশল বিনিময় করেন। এরপর বিশিষ্ট নাগরিকরা সাক্ষাৎ করেন তার সাথে। সবশেষ দলের কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মানুষের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি। পরে সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্যে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বেগম খালেদা জিয়া।

গুলশানের ক্যাফেতে জঙ্গি হামলায় ১৭ বিদেশিসহ ২০ জন নাগরিক হত্যার প্রসঙ্গ তুলে খালেদা জিয়া আরও বলেন, “আজকে দেশের অবস্থা মোটেই ভালো নয়, অত্যন্ত খারাপ। প্রতিটি মানুষ আজকে ভয়ের মধ্যে, আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।

“আপনারা লক্ষ্য করেছেন, গুলশানের ঘটনার পর সারা ঢাকা শহর থমথমে হয়ে গিয়েছিল, চলাচলের গাড়ি-ঘোড়া, মানুষজন কিছুই দেখা যায়নি; ভূতুড়ে নগরীর মতো হয়েছিল।”

নজিরবিহীন ওই জঙ্গি হামলার পেছনে গুলশানের কূটনৈতিকপাড়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ঘাটতি থাকার অভিযোগও করেন তিনি।

“সেদিন যে গুলশানের ঘটনাটি ঘটল, সেটি ডিপ্লোমেটিক এরিয়া, প্রটেকটিভ হওয়া উচিৎ। যে রেস্টুরেন্টে ঘটনাটি ঘটেছে, সেখানে বিদেশিরাই যায়। আমরা সাধারণ মানুষ না জানলেও সরকার তো তা জানে। কাজেই সেই এলাকায় আরও বেশি নিরাপত্তা থাকা উচিৎ ছিল।”

বিএনপিসহ বিরোধী মত দমন করতে গিয়ে সরকার প্রকৃত অপরাধীদের ছাড় দিচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, ‘এখন প্রয়োজন ঐক্যবদ্ধ হওয়া। এই সব নৃশংস ঘটনাগুলো বন্ধ হওয়া দরকার। এ ক্ষেত্রে সরকারেরই দায়িত্ব বেশি। কিন্তু তারা মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার বদলে ‘ব্লেম গেম’ করছে। সত্যিকার যারা অপরাধী, তাদের ধরা হচ্ছে না। সত্যিকার অপরাধীদের না ধরলে এ ধরনের ঘটনা আরও ঘটবে। এসব মোকাবিলা করার প্রস্তুতি সরকারের আছে কি না, সেটি দেখা দরকার।’

সরকারের বিরুদ্ধে দেশ পরিচালনায় ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান বেগম জিয়া। পাশাপাশি নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দেয়ারও দাবি জানান তিনি।

তিনি বলেন, “আমরা অনেক আগেই বলেছি, এই সরকার প্রথম থেকেই ব্যর্থ। এখন ব্যর্থতার দায় নিয়ে সরকারের উচিৎ যে এটা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সরে যাওয়া। নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে যাতে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে তার ব্যবস্থা করা।”

শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে শেরেবাংলা নগরে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বনানী কবরস্থানে ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো’র সমাধী জেয়ারত করেন বেগম খালেদা জিয়া।

কিশোরগঞ্জে শোলাকিয়ায় ঈদের জামাতে কাছে বিস্ফোরণ এবং গুলির ঘটনায়ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

“আজকে শোলাকিয়ায় যে ঘটনা ঘটেছে, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা গভীরভাবে মর্মাহত।”

অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপর্সনের পাশে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, আ স ম হান্নান শাহ, জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান, ইনাম আহমেদ চৌধুরী ও সাবিহ উদ্দিন আহমেদ।

সম্পর্কিত সংবাদ
নিজস্ব প্রতিবেদক