সারাদেশে “শিকারী” দাপটে চলছে…..!

সারাদেশে “শিকারী” দাপটে চলছে…..!

ঈদের লম্বা ছুটিতে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব নিয়ে সিনেমা হল গুলোতে চলছে ঈদের আনন্দের পাশাপাশি বাড়তি একটু বিনোদন নির্ভর আনন্দ। এবার ঈদে এর মধ্যে যারা হল গুলোতে গেছেন তারা হয়তো লক্ষ্য করেছেন মাঝখানে বেশ কিছুদিন ধরে বিভিন্ন কারণে হল গুলোতে যাওয়ার মত তেমন পরিবেশ ছিল না। কিন্তু এই ঈদে সিনেমা হল গুলোতে যারা এরই মধ্যে গেছেন তারা হয়তো একটি জিনিস লক্ষ্য করেছেন আর সেটি হলো প্রেক্ষাগৃহগুলোতে আবার ফিরে এসেছে আগের দিনের মতো পরিবেশ।

যারা দুই একদিনের ভিতরে হল কিংবা হলের আশেপাশেও গেছেন তারাই জানেন কি পরিমাণ ভিড় ছিলো প্রতিটি সিনেমা হলে। এবার ঈদের মুক্তি প্রাপ্ত ৪টি ছবিই বেশ জমজমাট চলছে বলা যেতে পারে। বিশেষ করে ‘শিকারী’। ‘শিকারী’ ছবি দেখতে গেলে আপনি বুঝতে পারবেন শাকিবের নতুন লুক নিয়ে মানুষের আগ্রহ কত। চরম ভিড় ঠেলে টিকিট পেয়ে সবাই আনন্দে হলে ঢুকেছে। কিন্তু শিকারী কি দর্শকের সে আশা পুরন করতে পেরেছে!

শিকারী ছবিটি জাজ মাল্টিমিডিয়া ও ভারতের এসকে মুভিজের  যৌথ প্রযোজনার ছবি যেখানে শাকিব খান এবং অমিত হাসান বাদে সবাই কোলকাতার অভিনেতা। অমিত হাসানও নাম মাত্র অভিনেতা। কারন তার জন্য কয়েক মিনিটেরই দৃশ্যায়ন করা হয়েছে। কিন্তু সিনেমার প্রেক্ষাপট হিসাবে তা ঠিকই আছে। যেহেতু ছবিটির প্রেক্ষাপট কোলকাতা, সেহেতু ব্যপারটা স্বাভাবিক।

শিকারী ছবিটির গল্পটা ভিষণ সাদামাটা। ট্রেইলারে যা দেখেছেন আর কি। হাই প্রোফাইল আইনজীবী রুদ্র চৌধুরী কে খুন করতে বাংলাদেশ থেকে ভাড়া করা হয় সুলতান(শাকিব খান) কে। তারপর শাকিব খানের চেষ্টা চলতে থাকে। প্রথমে শাকিব ওপেন প্লেসে গুলি করতে গিয়ে ফেইল্ড হয়ে যায়। তাই সে সরাসরি রুদ্র চৌধুরীর বাড়িতে ঢুকে তাকে খুন করার সিদ্ধান্ত নেয়। রুদ্র চৌধুরীর বাসার কাজের লোক তিনকড়ি বাবুকে জিম্মি করে সে প্রবেশ করে রুদ্র চৌধুরীর বাড়িতে। ঢুকেই চোখে পড়ে শ্রাবন্তিকে। তারপর শুরু হয় খুনের চেষ্টা। চেষ্টা করতে থাকে শাকিব কিন্তু তার চেষ্টা বার বারই বিফল হয়ে যায়। এরপর কিছু ফ্যামিলি ড্রামা এবং কিছু হালকা পাতলা টুইস্ট চলতে থাকে।

শাকিব খানকে নিয়ে কিছু বলার নেই। এ এক নতুন রূপে শাকিব। যে শাকিব কে দেখে এসেছি, ট্রল, গালাগালি করে এসেছি সেই শাকিব আর এই শাকিব এক নয়। শাকিবকে দেখার জন্য হলেও আপনাকে ছবি খানা দেখতে হবে। এই ছবিতে নতুন রূপে শাকিবকে দেখলে শিওর মেয়েরা ক্রাশ খেয়ে যাবেন। শাকিবের লুক থেকে শুরু করে ড্রেসআপ সবই ছিলো অনবদ্য। শাকিবের এন্ট্রি থেকে ডায়লগ, একশন সবকিছুতেই দর্শক হই করেছে। খুব তাড়াতাড়ি শাকিব দেব কিংবা জিৎ এর সাথে টক্কর দিয়ে ছবি করতে যাচ্ছেন তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা।

তামিল/কোলকাতা কমার্শিয়াল ছবির মত এই ছবিতেও নায়িকা শ্রাবন্তি ছিলো জাস্ট একটা শোপিস। পুরো ছবিতেই কয়েকটা ডায়লগ ছাড়া শ্রাবন্তির কোনই রোল নেই। শ্রাবন্তি এমনিই অনেক মিষ্টি মেয়ে। এই ছবিতে তো তাকে আরো মিষ্টি লেগেছে। মম চিত্তে গানের মাধ্যমে শ্রাবন্তির এন্ট্রিতে দর্শকদের হই পরে গেছে।

যে কারণে দেখবেন শিকারী – ছবিটি একটা ছন্দে চলেছে এবং প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত ছন্দটা ধরে রেখেছে। কোথাও স্টোরি টেলিংএ ড্রপ হয়ে যায় নি। খুবই নিট এবং ক্লিন ছবি। যারা এরকম পরিচ্ছন্ন মুভি পছন্দ করেন তাদের অবশ্যই ভালো লাগবে। শাকিবের নতুন লুক, নতুন অভিনয় ভালো লাগবে সবার। ছবির গানগুলো সবাই পছন্দ করবেন। সর্বোপরি ঝকঝকে, কালারফুল, নিট এবং ক্লিন স্ক্রিনপ্লে, ভালো ডিরেকশন, ভালো অভিনয় দেখার জন্য ছবিটি দেখতে পারেন।

সব মিলিয়ে যদি ঈদের বাড়তি আনন্দ উপভোগ করতে ছবিটি দেখতে যেতে পারেন। আর নরমাল ছবি লাভার হলে বেশ ভালো লাগবে। তবে যদি আপনি পাকা মুভিখোর হন সেক্ষেত্রে ছবিটা ইন্টারেস্টিং নাও লাগতে পারে।

সম্পর্কিত সংবাদ
মোঃ রায়হানুল হক (রুবেল)