যুক্তরাষ্ট্রে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিএডিভি-র আলোচনা অনুষ্ঠান

যুক্তরাষ্ট্রে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিএডিভি-র আলোচনা অনুষ্ঠান

যুক্তরাষ্ট্রের তারকা রেস্তোরাঁ ফিলাডেলফিয়াতে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ডেলওয়ার ভেলির (বিএডিভি) এর উদ্দ্যগে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আলোচনা অনুষ্ঠানে উপস্থাপিকা হিসবে উপস্থাপন করেন দিতি। আলোচনা অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র কমিউনিটির কয়েক জন বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা আলোচনা অনুষ্ঠানে দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অনেক জানা-অজানা সঠিক ইতিহাস তুলে ধরেন।

প্রথমেই ড.জিয়া উদ্দিন আহামেদের কাছে স্বাধীনতার ৪৭ বছর পার হলেও কোন বিষয়গুলো আমারা জানি না, সে বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তখন তিনি এর প্রতি উত্তরে বলেন, স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস, স্বাধীনতা কেন হলো, কেনও যুদ্ধ হল, যুদ্ধ করার প্রয়োজন কি ছিল, যুদ্ধ কি ভাবে হল, প্রজন্ম কেন, মুক্তি যুদ্ধের সময় যোদ্ধারা কোন সেক্টর কেমন ছিল, কিভাবে যুদ্ধ করল? এগুলোর সঠিক ইতিহাস কিন্তু এখনও লেখা হয়নি। এগুলোর সঠিক ইতিহাস লিখা দরকার।

তিনি বলেন, দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হল, লক্ষ লক্ষ মানুষ ঘর ছাড়লো, এক কোটি মানুষ ভারত গেল, যা ঘটেছে তার সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে হবে।

তিনি বলেন, বিশেষ করে মুক্তি যুদ্ধের সময় যে সব পরিবারের যুবক ছেলেরা ছিল, সে সকল পরিবারের ওপর বেশি অত্যাচার চালানো হয় এবং তাদেরকে হত্যা করা হয় ও এই সব ছেলেদের মায়েরা অনেক কষ্ট করে মানুষ করেছে। আমরা ৩০ লক্ষ মানুষের কথা বলি শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করি। কিন্তু আমরা তাদের সঠিক মুখ খুঁজে দেখতে চায় না সবাইকে আমারা এক করে ফেলি। এ জন্য শহীদ পরিবারদের খুঁজে বের করে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা দরকার।

তিনি বলেন, শহীদ পরিবারের অনেকেই বাড়ি ঘর হারিয়েছেন, পঙ্গু হয়েছেন তাই এই সব শহীদ পরিবারের সঠিক ইতিহাস গুলো একত্রে করে নতুন প্রজন্মের মাঝে তুলে ধরতে হবে।

অপর বক্তা সালাউদ্দিন আহমেদের কাছে জানতে চাওয়া হয় যে বিদেশি কমিউনিটির নতুন প্রজন্মের কাছে কীভাবে এর সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা যায় এবং তাদের মাঝে ইতিহাস ধারণ করা যায় এর প্রতি উত্তরে তিনি জানান, স্বাধীনতার ইতিহাস প্রজন্মদের জানিয়ে দিতে হলে প্রতিষ্ঠান দরকার এবং প্রতিটি স্বাধীনতা দিবসের আগে বা পরে যখোনি সুযোগ হয় এক একটি টপিক নিয়ে আলোচনা করতে হবে। কারণ আমাদের সবার ধারণ ক্ষমতা এক নয়। এই বছর হয়ত শহীদের খবরা খবর তার পরের বছর বিদেশিরা কি ভাবে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। এই ভাবে ধাপে ধাপে আমরা যদি এগিয়ে যায় তাহলে আমারা নতুন প্রজন্মের মাঝে সঠিক ইতিহাস তুলে  ধরতে পারব।

তিনি বলেন, আমারা গান-বাজনা আনান্দও করব এবং এর পাশাপাশি স্বাধীনতার এক একটি বিষয় নিয়ে নতুন প্রজন্মের কাছে আলোচনা করবো।

তিনি আরও জানান, সব চাইতে বড় ব্যপার হল, স্বাধীনতার ওপরে অনেক বই ভালো তথ্য আবার অনেক বই ভুল তথ্য ভরা আছে। এই সব ভুল তথ্য ভরা বই নিয়ে এর ওপর প্রতিবাদ করা, আলাপ আলোচনা করা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা। তাই আমার বেশি বেশি করে বই পড়বো এবং উৎসাহ দেব।

লেখক বদরুজ্জামান আলমগীর আহামেদের কাছে জানতে চাওয়া হয় বই দিয়ে কি ভাবে স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস সাধারণ জনগণের কাছে পৌছায়ে দেওয়া যায়- এর প্রতি উত্তরে তিনি জানান, অনেকের মধ্যে ধারণা আছে ১৯৭১ ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ হয় এবং এর দ্বারা বাংলাদেশের জন্ম হয়?এই জিনিসটা আমারা ধারণা করতাম? গত ৪৭ বছরে এর পক্ষে বিপক্ষে অনেক বই বের হয়েছে। এখন আমারা একটা পর্যায়ে এসে পৌঁছেছি যে না এই যুদ্ধটা আমরা নিজেরা করে স্বাধীনতা এনেছি। এই সময়  তিনি জেনারেল জ্যাকবের ‘Birth of a Nation’’  বইয়ের কথা বলেন এবং যেখানে আছে সঠিক ইতিহাস- সেই বই এ তুলে ধরা হয়েছে বাংলাদেশের মুক্তি যুদ্ধের ছেলেরা নেংটি পরা-গেঞ্জি পরা, সেই ছেলেরা কি আসম সাহস নিয়ে যুদ্ধ করেছে এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের যুদ্ধটা বাংলাদেশের মুক্তি যোদ্ধা ছেলেরা করেছে।

মুরাদ হোসেন বলেন, এখানে আমরা যারা আছি স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি তারা কম বেশি আমারা সবাই স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়ে জানি কিন্তু যিনি এই আলোচনা অনুষ্ঠান স্বল্প পরিসরে আয়োজন করেছেন তার স্বাধীনতার সময় জন্ম হয়নি। এখানে সব চেয়ে অবাক হওয়ার বিষয় হচ্ছে তার ভিতরে স্বাধীনতা জিনিসটা যে ভাবে কাজ করেছে এটাকে সবার মাঝে ছোড়ায়ে দিতে হবে।

পরিশেষে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ডেলওয়ার ভেলির (বিএডিভি) এর প্রেসিডেন্ট ইভা সাক্কার বলেন- মহান স্বাধীনতা দিবসের উপরে যে সব যুবকরা এত সুন্দর একটি আয়োজন করেছেন তাদের সবাইকে বিএডিভি এর পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানায়। এর পাশাপাশি এই আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য ড.জিয়া উদ্দিন আহামেদ, সালাউদ্দিন আহমেদ, বদরুজ্জামান আলমগীর আহামেদ ও মুরাদ হোসেনকে ধন্যবাদ জানানো হয়।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

সম্পর্কিত সংবাদ
নিজস্ব প্রতিবেদক