ম্যাচ শেষে যে কথা বললেন রোনাল্ডো…

ম্যাচ শেষে যে কথা বললেন রোনাল্ডো…

ক্লাবস্তরের সমস্ত ট্রফিই তাঁর আলমারিতে সাজানো রয়েছে। তিন-তিনবার জিতেছেন বর্ষসেরা ফুটবলারের তকমা। কিন্তু, রোববার রাতে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো যেভাবে কান্নায় ভেঙে পড়লেন, সেটা বোধহয় কেউ আশা করেন নি। কারণ, ফুটবলে আবেগের নাম যদি লিওনেল মেসি হয়, তাহলে অবশ্যই ঔদ্ধত্যের নাম ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। সেই ঔদ্ধত্যই যদি আবেগের নোনা জলে মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়, তবে সেটা ফুটবল ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে থাকে বৈকি !

রবিবাসরীয় রাতে ফ্রান্সকে ১-০ গোলে পরাস্ত করে পর্তুগাল। ঘণ্টাদুয়েকের মধ্যেই দুটো এক ছবি দেখতে পাওয়া গেল। কিন্তু, তাৎপর্য একেবারেই ভিন্ন। ম্যাচের ৮ মিনিটের মাথায় দিমিত্রি পায়েতের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি হয় রোনাল্ডোর। মাঠে শুয়ে কাতরাতে থাকেন পর্তুগাল অধিনায়ক। খানিকক্ষণের জন্য মাঠে বেরিয়ে গিয়েও, দলের স্বার্থে ফের মাঠে ফিরে আসেন। কিন্তু, ২৫ মিনিটের পর তিনি আর দৌড়তে পারেন নি। স্ট্রেচারে শুয়ে মাঠ থেকে বেরিয়ে যান তিনি। দু’চোখ বেয়ে নেমে আসে অঝোর কান্না।

ম্যাচের ১০৯ মিনিটের মাথায় গোল করেছেন এডার। অতিরিক্ত সময়ের গোলে এই প্রথমবার ইউরো কাপ জয় করে পর্তুগাল। বলা বাহুল্য, ইউরোপ সেরা হয় পর্তুগিজ় বাহিনী। রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই ফের কাঁদতে দেখা যায় রোনাল্ডোকে। তবে এ কান্না কোনও যন্ত্রণার নয়, এ কান্না শাপমোচনের। তাঁর সঙ্গেই কাঁদছেন স্তুদ দ্য ফঁস স্টেডিয়ামের কয়েক হাজার পর্তুগিজ় সমর্থক।

ম্যাচের পর রোনাল্ডো সাংবাদিকদের জানালেন, “আজ আমি খুব খুশি। ২০০৪ সাল থেকে আমি এই মুহূর্তটার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। আমি ভগবানকে আর একটা সুযোগ দিতে বলেছিলাম। কারণ আমরা এই ট্রফি জয়ের যোগ্য দল।” পাশাপাশি তিনি এও জানিয়েছেন, “আজ আমার ভাগ্যটাই খারাপ ছিল। আমি চোট পেয়ে গেলাম। তবে আমি সবসময় একথা বিশ্বাস করতাম, আমাদের দলে যে শক্তি এবং পরিকল্পনা রয়েছে, সেটা দিয়েই ফ্রান্সকে আমরা পরাস্ত করতে পারব। এটা আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা মুহূর্ত। আমি সবসময়ই পর্তুগালের হয়ে এমন কিছু একটা জয় করতে চেয়েছিলাম।”

টুর্নামেন্ট শুরুর আগে তাঁকে নিয়ে সমালোচনা কম হয় নি। তাঁকে অনেককেই মেসির সঙ্গে তুলনা টেনে কটাক্ষ করেছেন, তিনি নাকি কোনও বড় টুর্নামেন্টে দেশের হয়ে জয় আনতে পারেন না। রিয়্যাল মাদ্রিদেই নাকি রোনাল্ডোর সমস্ত ফুটবল দক্ষতা সীমিত। আজকের এই কান্না বোধহয় সেই সব সমালোচনারই জবাব দিতে পেরেছে এই জয়। বাকিটা তো সময় বলবে।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট