তুরস্কে অভ্যুত্থানের চেষ্টা পুলিশসহ নিহত ৬০

তুরস্কে অভ্যুত্থানের চেষ্টা পুলিশসহ নিহত ৬০

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর একাংশ ট্যাংক ও যুদ্ধবিমান নিয়ে অভ্যুত্থানের চেষ্টা চালিয়েছে। আঙ্কারা ও ইস্তাম্বুলে গতকাল শুক্রবার রাতভর সংঘর্ষ চলেছে। এ সময় বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দ শোনা যায়। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে অভ্যুত্থানকারীদের সংঘর্ষে এ পর্যন্ত ৬০ জন নিহত হয়েছে। তুর্কি সরকারি সূত্র জানায়, এ পর্যন্ত ৩৩৬ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগই সেনা সদস্য।

সরকারি সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর বরাত দিয়ে এএফপির খবরে দেশটির জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা জানান, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১৭ জন পুলিশ কর্মকর্তা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেছেন এরদোয়ান।

এরদোগানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (একেপি) সমর্থকেরা রাস্তায় নেমে এসেছে। তাদের সঙ্গে অভ্যুত্থানকারীদের সংঘর্ষ চলছে।

কয়েক ঘণ্টা ধরে নৈরাজ্যকর অবস্থা চলার পর আজ শনিবার সকালে ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে পৌঁছান এরদোগান। সেখানে দেওয়া ভাষণে তিনি পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেন।

তিনি বলেন, এ ধরনের অভ্যুত্থান জনগণের সঙ্গে প্রতারণা। অভ্যুত্থানকারীদের এ জন্য চড়া মূল্য দিতে হবে। তুরস্ককে কোনো দখলদারের কাছে দেওয়া হবে না। একেপির শত শত সমর্থককে শুভেচ্ছা জানান এরদোয়ান।

অভ্যুত্থানের পরিকল্পনাকারীদের ব্যবহৃত বিমান গুলি করে ভূপাতিত করার নির্দেশ দেন এরদোগান। তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইয়েলদ্রিম বলেন, ১২০ জনকে আটক করা হয়েছে।

আনাদোলুর বলছে, আঙ্কারায় পার্লামেন্ট ভবনের কাছে বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার দাবি করলেও এএফপি, বিবিসি ও রয়টার্সের খবরে ঘটনাস্থলে থাকা গণমাধ্যমকর্মীদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, আঙ্কারা ও ইস্তাম্বুলে সংঘর্ষ চলছে। চলছে বিস্ফোরণ, গোলাগুলি। আকাশে উড়ছে জঙ্গিবিমান।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাসহ পশ্চিমা দেশগুলোর বিশ্বনেতারা তুর্কি সরকারকে সমর্থন জানিয়েছেন।

সেনাবাহিনীর কোনো কর্মকর্তা হামলার দায় নেয়নি। তুরস্কে ১৯৬০ সাল থেকে তিনবার সেনা অভ্যুত্থান ঘটেছে।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট