কুসুম বউয়ের নাকের নোলক হারিয়েছে গহীন গাঙের জলে

কুসুম বউয়ের নাকের নোলক হারিয়েছে গহীন গাঙের জলে

তখনও কুসুম বউয়ের নাকের নোলকের গা নতুনের গন্ধে মাতাল;
রোজ স্বামীর জালে ধরা পরা মাছ বিক্রির টাকায় মিলে দু’মুঠো ভাত
দিনে বাহারি রঙের মান-অভিমানের ঝলমলে রোশনাই,
আর রেশমী চুড়ির রিনিঝিনি বাজে তার সোহাগের রাতে।
তারপর একদিন,
কোনরকম পূর্বাভাস ছাড়াই কুসুম বউয়ের নাকের নোলক
হারিয়ে গেল গহীন গাঙের জলে। ।

সেদিন আকশে ছিল ঝকঝকে রোইদ ;
আল্লাহর নাম নিয়া স্বামী তার ভাসাইছিল নাও
মাঝ গাঙে জাল ফালাইতেই আসমান জুইড়া ভাল্লুকের গায়ের লাহান,
মিসমিস্সা কালা ম্যাঘ।
চড়াৎ চড়াৎ কইরা বাজ পরে গাঙের জলে
বাতাসের তোড়ে উথাল-পাথাল ঢেউ।।

মাছের আশা বাদ দিয়া স্বামী তার তড়িঘড়ি জাল উঠাইয়া নিল নায়;
কুলে ফেরোনের লাইগা নাও ঘুরাইয়া,গতরের বেবাক জোড় দিয়া চালাইল বৈঠা
উল্টা বাতাসে ঢেউ উতলে পানিতে ভইরা যায় নাওয়ের পেট।
একহাতে শক্ত কইরা হাল ধইরা আরেক হাতে দেয় সেচ
নাওয়ের পানি তবু কমেনা একফোঁটাও।
আচমকা ঢেউয়ের বিস্ফারণ
ভরা গাঙে উল্টাইয়া গেল নাওখান।।

কানে বাজে আড়ৎদারের খাজনা মেটানোর হাঁক;
জানের মায়া করেনা তাই
জাল আর নাও খোঁজে এদিক-সেদিক,দিক-বিদিক
ঢেউয়ের দল কুন্ডলি পাকাইয়া গিল্লা খায়,হদিস মেলে না কিছুতেই।
আত্মাটাও য্যান জাপটে ধরে আউলা ঢেউ
তারেও বুকে টাইনা লয় ।।

অশান্ত জলে পাশ দিয়া ভাইসা যায় একটা কদমফুল ;
জল হাতড়ে শক্ত কইরা ধইরা ফালায়।
চোউক্ষে ভাসে কুসুম বউয়ের কদমগোঁজা খোঁপা
হারিকেনের আবসা আলো,
মোটা কইরা কাজল পড়া ডাগর চোখ,
আলতা দেয়া টুকটুইক্কা লাল ঠোঁট।
গোস্বা করা মুখখান,আহারে!বড় মায়া গো-কুসুম বউ।।

পেরাণপণ খেলে ডুব-সাঁতার;
কুলের ঠাঁই মেলেনা কিছুতেই
ঝড়ের তোড় বাড়ে,বাড়ে আত্মার দৌড়।
তারপর অসাড়,শ্রান্ত দেহ মাঝির
আচমকা আসে দমকা বাতাসে গহীন গাঙ
কাইড়া নেয় কুসুম বউয়ের নাকের নোলক।
এখনও পৃথিবীতে রোদ উঠে রাক্ষুসে গাঙের ক্ষিধা তবু কমেনা।।

সম্পর্কিত সংবাদ
তাহমিনা শিল্পী