সরকারের দুঃশাসনে দেশ খুন-খারাবিতে ভরে গেছে- রিজভী

সরকারের দুঃশাসনে দেশ খুন-খারাবিতে ভরে গেছে- রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ অভিযোগ করে বলেছেন, আধিপত্য বিস্তার ও সরকারের দুঃশাসনের কারণেই রাঙ্গামাটিতে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে এবং দেশে খুন-দুবৃত্তায়ণ বেড়ে গেছে।

শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, বেগম জিয়ার স্বাস্থ্য দিন দিন খারাপের দিকে গেলেও সরকার সেদিকে কোনো দৃষ্টি দিচ্ছে না।

গাজীপুর-খুলনা করপোরেশন নির্বাচনে গণতন্ত্রকে নিরুদ্দেশ করতে পুলিশ দিয়ে ভোটারদের ওপর দুরমুজ চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

রিজভী বলেন, বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের নির্বাচনী প্রচারণায় জনতার ঢল দেখে আওয়ামী লীগ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে হয়রানি শুরু করেছে। যতই দিন যাচ্ছে ততই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সরকারি দলের নৌকা প্রার্থীর পক্ষে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। নির্বিচারে আক্রমণ করে বিএনপি নেতাকর্মীদের রাতের ঘুম হারাম করে দিয়েছে।

তিনি বলেন, গাজীপুরে সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রধান বাধা এসপি ও খুলনায় পুলিশ কমিশনার। তাদের নির্দেশে দুই সিটিতে পুলিশি তাণ্ডব চলছে।  নৌকার প্রার্থীকে জেতাতে সরকারের প্রশ্রয়ে পুলিশ হয়ে উঠেছে স্বেচ্ছাচারী, অনিয়ন্ত্রিত ও বেপরোয়া।

রিজভী বলেন, গাজীপুর ও খুলনা সিটি নির্বাচনে পুলিশি তাণ্ডব, গণগ্রেফতার এবং এলাকায় ভীতিকর পরিবেশ দিনকে দিন আরও পরিব্যাপ্ত হচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা প্রদানসহ নানাভাবে হয়রানিও করছে পুলিশ ও সাদা পোশাকের পুলিশ। ভরাডুবির ভয়ে সরকার অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চায় না। আওয়ামী শাসন কখনোই ভোটাধিকার, নির্বাচন ও গণতন্ত্রের জন্য স্বাস্থ্যকর হয়নি। গণমাধ্যমে একতরফা ফলাফল ঘোষণা করাই প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায়।

তিনি অভিযোগ করেন, গতকাল রাতে পুলিশি অভিযানের অংশ হিসেবে গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার হারুন-অর-রশিদ টঙ্গী থানায় পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়ে রুদ্ধদার বৈঠক করেন। তিনি রাতে টঙ্গীতে অঞ্চল ভিত্তিক একটি সমিতির কর্মকর্তাদের সাথেও গোপন বৈঠক করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিএনপির এ কেন্দ্রীয় নেতা আরও বলেন, শেখ হাসিনার দলীয় প্রশাসন যেমন অকর্মণ্য তেমনি দুর্নীতিগ্রস্ত। সর্বত্রই ক্ষমতা-আশ্রিত গুন্ডা-মাস্তানদের দাপট। আওয়ামী লীগ সন্ত্রাস আর গুন্ডামিকে নিজেদের জীবনাচরণে কর্মক্ষেত্রে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পার্বত্য চট্টগ্রামে আঞ্চলিক দলগুলোর সশস্ত্র তৎপরতায় শক্তিমান চাকমাসহ ৬ জন নিহত এবং বেশ কিছু সংখ্যক গুলিবিদ্ধ হওয়াসহ নরসিংদীতে রায়পুরা উপজেলার বাঁশগাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল হককে দিনে-দুপুরে গুলি করে হত্যা করা আওয়ামী দুঃশাসনের এক ভয়ঙ্কর দৃষ্টান্ত।

খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে বার বার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হলেও এখনও তার চিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়নি সরকার।

‘উল্টো আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনাসহ তাদের দলীয় নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে ইয়ার্কি-ঠাট্টা করছেন। এদের নিষ্ঠুর রসিকতায় দেশবাসী বিস্মিত ও হতভম্ব।’

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট