নর্থ সাউথের প্রো-ভিসির বাড়ি অপারেশনাল হাউস!

নর্থ সাউথের প্রো-ভিসির বাড়ি অপারেশনাল হাউস!

গুলশানের হলিডে আর্টিজান রেষ্টুরেন্টে হামলার অপারেশনাল হাউস হিসেবে ব্যবহার করা হয় বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাড়ি। মে মাসের শেষ সপ্তাহে এবং রমজানের এক সপ্তাহ আগে হামলাকারীরা এই বাড়িটি ভাড়া নেয়।

এই বাড়ির মালিক নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি গিয়াস উদ্দীন আহসান। তিনি জিইউ আহসান নামে পরিচিত। গিয়াস উদ্দীন নর্থ সাউথের স্কুল অব হেলথ অ্যান্ড লাইফ সায়েন্সের ডীনের দায়িত্বও পালন করছেন।

জানা গেছে, ঘাতকরা স্ত্রী, ভাই এবং শ্যালক থাকবে বলে বাসাটি ভাড়া নেয়। পরে আস্তে আস্তে জঙ্গিরা সেখানে আস্তানা গড়ে তোলে। গুলশান হামলার পরিকল্পনা এবং হলিডে আর্টিজান রেস্টুরেন্ট রেইকিও করা হয় এখান থেকে।

গুলশান হামলার ঘটনায় আটক জঙ্গি ও বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে কাউন্টার টেরোরিজমের একটি অভিজ্ঞ তদন্ত দল গুলশান হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার তদন্ত করছেন। তদন্তে বেরিয়ে আসে হামলার আগে ঘাতকরা কোথায় কোথায় অবস্থান নিয়েছিল।

শনিবার রাতে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি গিয়াস উদ্দীন আহসান এবং তার বাড়ির কেয়ারটেকারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান ও মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বাড়ির কেয়ারটেকারও গুলশান হামলার ঘটনায় জড়িতরা যে তাদের বাসায় ছিল সেটা সনাক্ত করেছে। পুলিশ ওই বাসায় তল্লাশি করে গ্রেনেড রাখার বালুসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করেছে। নর্থ সাউথের এই শিক্ষক গুলশান ও শোলাকিয়ার হামলার সঙ্গে জড়িত কীনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান।

এদিকে গুলশানের হলিডে আর্টিজান রেষ্টুরেন্টে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ও তার সহযোগীদের সনাক্ত করা হয়েছে। পরিকল্পনাকারী দেশেই অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। গুলশান হামলার ঘটনা তদন্ত শেষে ঐ বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শিগগিরই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া জানান, গুলশান হামলার মূল পরিকল্পনাকারী এবং সহযোগীদের সনাক্ত করা হয়েছে। এই ঘটনায় মদদদাতাদের কয়েকজনকে সনাক্ত করা হয়েছে। শিগগিরই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান ও মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে গুলশান হামলার তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে গুলশান হামলা এবং শোলাকিয়ার ঈদগাহ মাঠের হামলা একই সূত্রে গাঁথা।

এদিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, গুলশান হামলার মূল পরিকল্পনাকারী সুলেমান ও তৌফিক। ভারতের সিবিআইয়ের দাবি, জেএমবির সাবেক নেতা সুলেমান আইএসের বাংলাদেশ সমন্বয়ক ও আনসারুল তৌফিক আনসার আল বাংলা টিমের অপারেশন প্রধান।

ভারতে আটক জঙ্গি নেতাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যমতে, গুলশান ও শোলাকিয়ায় হামলার মূল পরিকল্পনা যৌথভাবে সাজিয়েছেন জঙ্গি নেতা সুলেমান ও তৌফিক। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া জানান, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা খোঁজ নিচ্ছি।

এদিকে গুলশান ও শোলাকিয়ার হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই ৪৮ ঘন্টার মধ্যেই আবারও হামলার আশঙ্কা করা হচ্ছে! সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক এবং মোবাইলের খুদে বার্তার মাধ্যমে এই তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে। এই ঘটনার পর নগরীর বড় বড় শপিং মলগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে পুলিশ। পুলিশের মোবাইল টিমগুলোকে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে।

খুদে বার্তায় বলা হয়েছে, ৪৮ ঘন্টার মধ্যে রাজধানীর যে কোন শপিং মলে হামলা চালানো হবে। এই ঘটনার পর নগরীর বসুন্ধরা, যমুনা ফিউচার পার্ক, রাপা প্লাজা, বায়তুল মোকাররম, পলওয়েল মার্কেট, কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি, টুইন-টাওয়ারসহ শপিংমলগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ। ইতিমধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোষ্টগুলোকে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। সন্দেহভাজন যানবাহন, পথচারী ও তাদের লাগেজে তল্লাশি চালাতে বলা হয়েছে পুলিশকে।

মহাখালী আইসিডিডিআরবি’র (কলেরা হাসপাতাল) কর্তৃপক্ষ তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আগামী ৪৮ ঘন্টা শপিং মলে না যেতে ও সতর্কভাবে চলাফেরার পরামর্শ দিয়েছেন। একজন শীর্ষ কর্মকর্তা এর সত্যতা স্বীকার করেছেন।

পুলিশের আইজি একেএম শহীদুল হক বলেন, সন্ত্রাসীরা কখনো বলে কয়ে হামলা করে না। এটা নিছক গুজব। ঢাকা মহানগর পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, বিভিন্ন ব্যক্তির মোবাইল ফোনে হুমকির ঘটনাটি অবহিত হওয়ার পর তারা নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিয়েছেন। এ ব্যাপারে পুলিশকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। র্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সব জায়গা নিয়মিত মনিটর করা হচ্ছে। সবকিছু গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছে।

সম্পর্কিত সংবাদ
নিজস্ব প্রতিবেদক