তুরস্কে সেনা অভ্যুত্থানের নেপথ্যে ফেতুল্লাহ গুলেন!

তুরস্কে সেনা অভ্যুত্থানের নেপথ্যে ফেতুল্লাহ গুলেন!

গমগমে শহরগুলো আজ থমথমে। আঙ্কারা, ইস্তানবুল জুড়ে শুধুই স্বজন হারানোর কান্না আর হাহাকার। সেনা অভ্যুত্থান সফল না হলেও হতাহতের সংখ্যাটা অনেক। কিন্তু, কেন ? কার মদতে এই সেনা অভ্যুত্থানের চেষ্টা ? কে এই হত্যালীলার মূলচক্রী ? টার্কি সরকারের একাংশের মুখে অবশ্য একটাই নাম। ফেতুল্লাহ গুলেন। ১৭ বছর ধরে স্বেচ্ছায় নির্বাসিত ধর্মগুরু। বর্তমানে যিনি অ্যামেরিকার পেনসিলভেনিয়ায় রয়েছেন। একদিন যার আদর্শে গড়ে উঠেছে টার্কি। সেই গুলেনই আজ কাঠগড়ায়। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন খোদ প্রেসিডেন্ট এরদোগান।

জানা গেছে, এই বিদ্রোহের কেন্দ্রে রয়েছে ধর্মনিরপেক্ষ কিছু গোষ্ঠী। এই গোষ্ঠীর মধ্যে বেশ কয়েকজন দেশের সেনাবাহিনীর পদস্থ কর্তা। রয়েছেন মুসলিম ও প্রেসিডেন্টের নিজের দল AKP পার্টির সদস্য। ধর্মনিরপেক্ষ এই গোষ্ঠীর কার্যকলাপ মধ্যপ্রাচ্যে অ্যামেরিকার অন্যতম মিত্র দেশের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটাচ্ছে বলে খবর। এবং ধর্মনিরপেক্ষ এই গোষ্ঠীটির মাথাতেই নাকি ফেতুল্লাহ। এমনই খবর প্রচারিত হয়েছে। যাকে কেন্দ্র করে ফের প্রশ্নের মুখে মার্কিন ও টার্কির দীর্ঘদিনের মিত্রতা। কারণ এর আগেও একাধিকবার গুলেনকে দেশে ফেরাতে চাইলেও তা পারেনি এগদোগানের সরকার। এমনকী, পেনসিলভেনিয়ার আদালতে বারবার নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন গুলেন।

কে এই ফেতুল্লাহ গুলেন ?

১৯৯৯ সালে নিজের দেশ টার্কি থেকে স্বেচ্ছায় নির্বাসিত হন ফেতুল্লাহ গুলেন। এরপর অ্যামেরিকার পেনসিলভেনিয়াতে পাকাপাকিভাবে বসবাস শুরু করেন তিনি। তাঁর অনুগামীরা বলেন, এক উদারনৈতিক আধুনিক মুসলিম ধর্মে বিশ্বাসী তিনি। নিজের বক্তব্যের মাধ্যমে অনুগামীদের মনজয় করতে পারেন। নিজে মুসলিম হলেও পোপ জন পল দ্বিতীয় ও অন্য খ্রিস্টান যাজকদের সঙ্গে ভালো যোগাযোগ রয়েছে তাঁর। টার্কিতে তাঁর অনুগামীরা গুলেনিস্ট নামে পরিচিত। যাঁরা হিজ়মত আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। মার্কিন একটি সংবাদপত্রে জানানো হয়েছে, পশ্চিমীপন্থী হিজ়মত গোষ্ঠী একাধিক সমাজকল্যাণমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত। তবে এরদোগানের ইসলামি মতাদর্শ নিয়ে দ্বন্দ্বও রয়েছে গুলেনের সঙ্গে।

 “সেনা অভ্যুত্থানের নেপথ্যে মূলচক্রী ফেতুল্লাহ গুলেনই”। দাবি করেছেন টার্কির প্রেসিডেন্ট এরদোগান। এনিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টকেও একপ্রকার হুঁশিয়ারির সুরে জানিয়েছেন, “হয় গুলেনকে ফেরত দিন, নয় তাঁকে গ্রেপ্তার করুন। আপনি কি শুনতে পাচ্ছেন না ? আমি আপনাকে আবার বলছি। তাঁকে আমাদের হাতে সমর্পণ করুন।” এমনিতেই এরদোগানের সঙ্গে মার্কিন কংগ্রেসের সম্পর্ক খুব একটা মধুর নয়। তার উপর সেনা অভ্যুত্থানের নেপথ্যে যখন গুলেনের নাম উঠে এসেছে। স্বভাবতই মেজাজ হারিয়েছেন প্রেসিডেন্ট এরদোগান। তাঁর বক্তব্যেই তা স্পষ্ট।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট