যার যার অবস্থান থেকে জঙ্গিবাদ মোকাবিলাঃ আইজিপি  

যার যার অবস্থান থেকে জঙ্গিবাদ মোকাবিলাঃ আইজিপি  

পুলিশের আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক জানিয়েছেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় যার যার অবস্থানে থেকে এগিয়ে আসার আহ্বান। রোববার দেশের সবগুলো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় আইজিপি শহীদুল হক এই আহ্বান জানান।

তিনি জানান, আমাদের যার যার অবস্থান থেকে এই সঙ্কট মোকাবেলা করা উচিত। আপনাদের পাশে নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করবে। সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জঙ্গি কর্মকাণ্ডের জড়িয়ে পড়ার নতুন নতুন তথ্য আসার প্রেক্ষাপটে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ‘জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক’ এই মত বিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন আইজিপি।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, শিক্ষা সচিব সোহরাব হোসাইন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান (ইউজিসি) অধ্যাপক আবদুল মান্নান, র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, ঢাকার পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া ছাড়াও শিক্ষাবিদ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সভায় উপস্থিত আছেন।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান, উপাচার্য ছাড়াও ছাত্র, শিক্ষক ও অভিভাবক প্রতিনিধিরা অংশ নেন এই মতবিনিময়ে।

সভার শুরুতে পুলিশের কাউন্টার টেরিরিজম ইউনিটের প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের (উত্তর) সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকও সভায় বক্তব্য দেন।

আইজিপি জানান, কে সন্ত্রাস করল, কে কোন দলের, কে কোন মতের সেটা বড় কথা না। সন্ত্রাসী এবং জঙ্গিবাদীদের সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে চাই, আপনাদের সহযোগিতা দরকার।

তরুণদের সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদে জড়িত করা হচ্ছে মন্তব্য করে আইজিপি জানান, কোরআনের কিছু সুরার খণ্ডিত অংশ বিকৃত করে জিহাদের নামে বেহেস্তে যেতে পারবে বলে তরুণদের বিভ্রান্ত করছে।

তিনি জানান, তারা মানবতার বিরুদ্ধে হামলা করছে। এসব হামলা করে দেশে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করেছে। দেশের উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতিকে ধ্বংস করার জন্য ষড়যন্ত্র করেছে।

আগে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ প্রবণতা দেখা গেলেও এখন ‘নামী-দামী’ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছেলেরাও জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে বলে মন্তব্য করেন পুলিশ প্রধান।

এ বিষয়ে পরিবার ও শিক্ষকদের সহযোগিতা চেয়ে তিনি জানান, সন্তানরা যেন বিপথে না যায় তা দেখার দায়িত্ব পরিবারের। আমি মনে করি শিক্ষকদেরও দায়দায়িত্ব আছে নজরদারি করার। সামাজিক দায়িত্ব থেকে মোকাবেলা করা উচিত।

সবার সহযোগিতা নিয়ে জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলার আশা প্রকাশ করে শহীদুল হক জানান, সন্তানরা যেন এসব কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়তে পা তার দায়িত্ব আমাদের। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যারা আছেন তাদেরও দায়িত্ব আছে নজরদারি করার। কীভাবে নজরদারি করা যায় সে বিষয়ে আপনারা মতামত দেবেন।

জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সরকারের কি করা উচিত সে বিষয়ে পরামর্শ চাওয়ার পাশাপাশি নতুন করে কাউকে যেন জঙ্গিরা ‘রিক্রুট’ করতে না পারে সে বিষয়ে সজাগ থাকার পরামর্শ দেন পুলিশ প্রধান।

সম্পর্কিত সংবাদ
নিজস্ব প্রতিবেদক