‘একজন মায়াবতী’ ‘মানবী’ ‘মৃন্ময়ী’ বলছি..

‘একজন মায়াবতী’ ‘মানবী’ ‘মৃন্ময়ী’ বলছি..

 ‘বাদশাহ নামদার’ (হুমায়ূন আহমেদ)’!

আজ আমি কোথাও যাব না’। কি ভাবছ ‘আজ হিমুর বিয়ে?’। কিন্তু না, আজ সেইদিন যেদিন তুমি ‘উড়ালপঙ্খি’ হয়ে আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছিলে ‘অনন্ত নক্ষত্র বীথি’-তে। ‘দেখা না দেখা’ ‘লিলুয়া বাতাস’ যদিও তোমাকে করেছে ‘নীল মানুষ’। যদিও তুমি এখন ‘অচিন পুরের বাসিন্দা’। আর ‘রাবনের দেশে আমি এবং আমরা’। তবুও তোমাকে ভালবাসা পৌঁছাবার ‘হিজিবিজি’ ভাবনায় ‘দেয়াল’ তুলেছি ‘আমি এবং কয়েকটি প্রজাপতি’। আচ্ছা কি দেব তোমায়? ‘হিমুর হাতে কয়েকটি নীলপদ্ম’! নাকি ‘ম্যাজিক মুন্সি’ কে ডেকে কিছু ম্যাজিক দেখাব তোমায়? জানি তোমার ‘এখন মেঘের ওপর বাড়ি’। তবুও ‘মাতাল হাওয়া’-য় কান পেতে থাকি ‘কে কথা কয়?’ কিন্তু না ‘কোথাও কেউ নেই’। ‘লীলাবতী’-র ‘পারাপার’ সেতুর উপরে দাঁড়িয়ে ‘দিনের শেষে’ ‘একা একা’ তাকিয়ে থাকি। ভাবি ‘দিঘির জলে কার ছায়া গো?’। ‘যখনি নামিবে আঁধার’ ‘তেঁতুল বনে জোছনা’ ছড়াবে চাঁদ। তবুও ‘সে সময়’ কেউ বলবে না ‘আমিই মিসির আলী’। ‘যদিও সন্ধ্যা’ তবুও আমি ‘মধ্যাহ্ন’-ই ভাবছি। ‘এই শুভ্র এই’ ‘আজ দুপুরে তোমার নিমন্ত্রন’। ‘বৃষ্টি বিলাস’-এ ‘ব্যাঙ কন্যা এলেং’ তোমায় ডাকছে যে। সে তোমায় ‘রূপার পালংক’ পেতে দেবে। ‘কুটুমিয়া’ তুমি আসবে তো? নইলে যে ‘এই বসন্তে’ ‘নক্ষত্রের রাতে’ ‘হিমুর নীল জোছনা’-য় ‘লীলাবতীর মৃত্যু অবধারিত’।

বহুদিনের ইচ্ছে পুরোণ করতেই সেদিন বন্ধুদের নিয়ে বেড়াতে গিয়েছিলাম আমার প্রিয় লেখক হুমায়ুন আহমেদের স্বপ্নের স্বর্গ নুহাশ পল্লীতে। সারাদিন গানে-গানে, হৈ-হুল্লোরে কেটেছিল সবার। কিন্তু কোথায় যেন বারবার ছন্দপতনের একটা সুর পাচ্ছিলাম থেকে থেকে। আমার মত বাকি সবাই পাচ্ছিল কিনা জানি না। তবে আমার কাছে ছন্দহীন সে সুরটা যে কতটা করুন আর স্পষ্ট হয়ে বেজেছিল, তা কেবল আমিই অনুভব করেছিলাম। সবাই মিলে ঘুরে ঘুরে দেখলাম নুহাশ পল্লী। সত্যিই এক সবুজের শান্তিময় স্বর্গ যেন এটি।

নুহাশ পল্লীর সর্বত্র হুমায়ুন আহমেদকেই অনুভব করেছিলাম। আকাশে-বাতাসে, প্রতিটি গাছের নিশ্বাসে শুনতে পাচ্ছিলাম তাঁরই নাম। আমার মনে হয়েছিল নুহাশ পল্লীর কোথাও না কোথাও থেকে তিনি তাঁর এই ভক্তকে ঠিকই দেখতে পাচ্ছেন। এভাবেই অদ্ভুত এক ভাললাগায় কেটে গেল দিন। তারপর সন্ধ্যা হতেই বাজল বিদায় ঘন্টা। বুকের ভিতর কেন যেন সুক্ষ একটা ব্যাথা অনুভুব করছিলাম।মনে হচ্ছিল যেন খুব প্রিয় কিছু এখানে ফেলে যাচ্ছি। তাই সবাই যখন গাড়িতে মালপত্র উঠাতে ব্যাস্ত। আমি তখন নুহাশ পল্লীর এক কোণে বসে আমার পড়া হুমায়ুন আহমেদের কিছু বইয়ের নাম দিয়ে একটা চিঠি লিখে ফেললাম। আর চুপিচুপি রেখে এলাম যেখানে ঘুমিয়ে আছেন প্রিয় লেখক হুমায়ুন আহমেদ। অবুঝ ভক্তের লিখা এই চিঠি নিশ্চই পৌঁছে যাবে তাঁর কাছে।

আজ ১৯ জুলাই প্রয়াণ দিবসে প্রিয় লেখক হুমায়ুন আহমেদ তোমাকে সশ্রদ্ধ সালাম।

সম্পর্কিত সংবাদ
তাহমিনা শিল্পী