দেশের বর্তমান জনসংখ্যা ১৬ কোটি ১০ লাখ

দেশের বর্তমান জনসংখ্যা ১৬ কোটি ১০ লাখ

দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১ দশমিক ৩। আর ১৬ কোটি ১০ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে এক-তৃতীয়াংশই কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণী। তাই জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১ এ নামাতে কিশোর-কিশোরীদের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে।

বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালন উপলক্ষে মঙ্গলবার দুপুর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক এসব কথা জানান। বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে প্রতিবছর ১১ জুলাই বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালন করে বাংলাদেশ।

এবার পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ১১ জুলাইয়ের পরিবর্তে ২১ জুলাই বাংলাদেশে জনসংখ্যা দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জনসংখ্যা দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘কিশোরীদের জন্য বিনিয়োগ, আগামী প্রজন্মের সুরক্ষা’।

সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের বর্তমান জনসংখ্যা ১৬ কোটি ১০ লাখ। জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার এখনও ১ দশমিক ৩। এ হার ১–এ নামিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। মোট জনসংখ্যার ৩১ শতাংশ তরুণ প্রজন্ম। তাই জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমাতে তরুণ প্রজন্মের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, দেশে সাড়ে চার কোটি কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণী রয়েছে। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সরকার এখন কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্যের দিকে বিশেষ নজর দিচ্ছে। আমরা মনে করি, তাদের সচেতন করতে পারলে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।

তিনি আরো জানান, সমাজে শিক্ষিত মা তৈরি হলে একদিকে মা ও শিশু মৃত্যুর হার কববে, অন্যদিকে জনসংখ্যাও বাড়বে না। তাই শিক্ষায় মেয়েদের অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার। একইসঙ্গে মেয়েদের সব ক্ষেত্রে চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।

কিশোর-কিশোরীর স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিতে দেশের ১০০টি সেবাকেন্দ্রে কিশোরবান্ধব স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে বলে তিনি প্রতিমন্ত্রী।

বেশ কয়েক বছর ধরে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার একই জায়গায় আটকে আছে। আগের মতো বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবার পরিকল্পনার কোনো সেবা দেওয়া হচ্ছে না।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জাহিদ মালেক জানান, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১ দশমিক ৩ থেকে ১–এ নামিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবার পরিকল্পনার সেবা দেওয়া বন্ধ করা হয়নি। আগের চেয়ে এখন যোগাযোগব্যবস্থা অনেক ভালো হওয়ায় নিজেরাই সেবাকেন্দ্রে চলে আসেন। বাড়ি বাড়ি যাওয়ার ততটা প্রয়োজন হয় না। এরপরও প্রয়োজন হলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেবা দেওয়ার পরিমাণ আরও বাড়ানো হবে।

উঠতি বয়সী সন্তানের দিকে বিশেষ খেয়াল রাখার জন্য মা–বাবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলার ঘটনায় আমরা দেখতে পেয়েছি, বিপথগামী তরুণেরা এতে জড়িত ছিল। সন্তান কোথায় যায়, কার সঙ্গে মেলা মেশা করে- এসব বিষয়ে মা–বাবাকে সতর্ক থাকতে হবে।

গুলশান হামলায় জড়িত তরুণরা বিশেষ মাদক নিয়েছিল বলে যে তথ্য পাওয়া গেছে- এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, এটা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের দেখার বিষয়। তরুণদের মাদক ব্যবহার থেকে বিরত রাখতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যসচিব সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ওয়াহিদ হোসেন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।

সম্পর্কিত সংবাদ
নিজস্ব প্রতিবেদক