চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়ালের হ্যাটট্রিক শিরোপা

চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়ালের হ্যাটট্রিক শিরোপা

উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে প্রথম দল হিসেবে টানা তৃতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইতিহাস গড়ল রিয়াল মাদ্রিদ।  ইউরোপসেরা টুর্নামেন্টে লিভারপুলকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে জিনেদিন জিদানের শিষ্যরা।

এ নিয়ে অমরত্ব পেয়ে গেল রিয়াল! ফুটবলের মর্যাদার লিগটিতে প্রথম দল হিসেবে টানা তিনবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কীর্তি গড়ল দলটি।

ইউক্রেনের কিয়েভে ফাইনালি লড়াইয়ে প্রথমে গোল করে রিয়ালকে লিড এনে দেন বেনজেমা। তবে লস ব্লাঙ্কোজদের আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। এর কিছুক্ষণ পরই লিভারপুলকে সমতায় ফেরান সাদিও মানে। আর বদলি নেমে জোড়া গোল করে দলকে শিরোপা রেকর্ড শিরোপা উপহার দেন বেল।

শুরুতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল লিভারপুলের হাতে। ২৩ মিনিটে আলেক্সান্দার আরনল্ড জোরালো শট নিলেও রিয়াল গোলরক্ষক কেইলর নাভাস আটকে দেন। তার দুই মিনিট পর লিভারপুল বড় ধাক্কা খায় সালাহর কাঁধের চোটে। সের্হিয়ো রামোসের কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে কেঁদে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। তার ৭ মিনিট পর দানি কারভাহালকে ইনজুরিতে হারায় রিয়াল।

বিরতির দুই মিনিট আগে রোনালদোর শক্তিশালী হেড লিভারপুল গোলরক্ষক রুখে দিলেও ফিরতি শটে বল জালে জড়ান করিম বেনজিমা। কিন্তু অফসাইডের ফাঁদে পড়ে গোলটি বাতিল হয়। অবশ্য বিরতির পর ক্যারিয়ারের সহজতম গোলে রিয়ালকে এগিয়ে দেন ফরাসি ফরোয়ার্ড।

অনেক চেষ্টা করেও বেলের শট ধরে রাখতে পারলেন না কারিউসরিয়ালকে বেনজিমা এগিয়ে দেওয়ার আগে ৪৮ মিনিটে ইস্কোর দুর্দান্ত শট ক্রসবারে আঘাত করে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। তিন মিনিট পর গোলরক্ষকের মস্ত বড় ভুলে পিছিয়ে পড়ে লিভারপুল। ৫১ মিনিটে বল হাতে নিয়ে সতীর্থদের দিকে ছুড়ে দিতে চেয়েছিলেন লরিস কারিউস। কিন্তু লিভারপুলের এই গোলরক্ষকের থ্রো বেনজিমার বাঁ পায়ে লেগে ফিরে ঢুকে যায় জালে। ২০০২ সালে জিনেদিন জিদানের পর প্রথম ফরাসি খেলোয়াড় হিসেবে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে গোল করলেন তিনি।

এই ভুলে মাশুল দিয়ে লিভারপুল পিছিয়ে পড়েছিল ঠিক, কিন্তু ৪ মিনিট পর তারা আনন্দে মাতে। ৫৫ মিনিটে রবার্তো ফিরমিনোর কর্নারে হেড করে সামনের দিকে বল পাঠান লভরেন, সহজ ভলিতে জালে বল জড়ান সাদিও মানে।

জোড়া গোলের পর বেলের উদযাপনকিছুক্ষণ পরই এগিয়ে যায় রিয়াল। ৬৩ মিনিটে ইস্কোর বদলি নামার ২ মিনিট ২ সেকেন্ড পরই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন বেল। মার্সেলোর ক্রস থেকে বল খুঁজে পান তিনি। দারুণ বাইসাইকেল কিকে কারিউসকে কোনও সুযোগ না দিয়ে ২-১ করেন বেল।

৭০ মিনিটে মানের একটি শট গোলবারে লাগলে সমতা ফেরানো হয়নি লিভারপুলের। ৮১ মিনিটে বেনজিমার প্রচেষ্টা নস্যাৎ করে দেন কারিউস। কিন্তু ২ মিনিট যেতেই আবার ভুল করে বসেন লিভারপুল গোলরক্ষক। ডিবক্সের বাইরে থেকে বেলের লম্বা শট সোজা চলে যায় তার হাতে, কিন্তু বল ধরে রাখতে পারেননি কারিউস। তাকে আরেকবার বোকা বানিয়ে জালে ঢুকে যায় বল।

৮৩ মিনিটের এই গোলে প্রথম বদলি খেলোয়াড় হিসেবে একটি চ্যাম্পিয়নস লিগ বা ইউরোপিয়ান কাপ ফাইনালে জোড়া গোলের কৃতিত্ব গড়েন বেল।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট