রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনই বাজেটের বড় চ্যালেঞ্জ: এফবিসিসিআই

রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনই বাজেটের বড় চ্যালেঞ্জ: এফবিসিসিআই

রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করাই প্রস্তাবিত বাজেটের একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)।

শনিবার ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই পক্ষ থেকে আয়োজিত বাজেট পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলা হয়।

২০১৮-১৯ অর্থবছরের রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৯৬ হাজার কোটি টাকা। এটি গতবছরের চেয়ে ১৯.৩৪ শতাংশ বেশি। রাজস্ব আদায়ের এই উচ্চ লক্ষ্যমাত্রা বিষয়ে সংগঠনটির মত, রাজস্ব আদায়ের এই চ্যালেঞ্জ অর্জনের জন্য অনেক সময় করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করা হয়। শুধু তাই নয় এর জন্য আইন-কানুনের অপপ্রয়োগ ও কর কর্মকর্তারা ব্যবসায়ীদের হয়রানি করে থাকে। তাই রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও মনিটরিং প্রয়োজন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ‘প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা। যা জিডিপির ৪.৯ শতাংশ। ঘাটতি বাজেট মোকাবিলায় সরকার ব্যাংক থেকে ৪২ হাজার ২৯ কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্রের প্রকল্প থেকে ২৬ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।’

ব্যাংক খাতের ওপর নির্ভরশীলতা উৎপাদনশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে আশঙ্কা করে বক্তারা আরো বলেন, ‘সরকারের এই ঋণ গ্রহণ প্রক্রিয়া বেসরকারি খাতে যেন ঋণপ্রাপ্তিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য তদারকি করা প্রয়োজন।’ উচ্চ সুদের কারণে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে বলেও মন্তব্য করেন বক্তারা।

মুষ্টিমেয় স্বার্থান্বেষী মহলের কারণে দেশের ব্যাংকিং খাতে বিশৃঙ্খলা দেখা দিচ্ছে। ব্যাংকিং খাতে সুশাসন বজায় রাখতে এদের শাস্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)।

করমুক্ত আয়ের সীমার প্রসঙ্গে আরও বলা হয়,করমুক্ত আয়ের সীমা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে যা আমরা চাইনি। করমুক্ত আয়ের সীমা আমরা কমপক্ষে তিন লাখ টাকা করার প্রস্তাব করছি। আয়কর অধ্যাদেশের ১২০ ধারার অপপ্রয়োগে ব্যবসায়ীরা হয়রানির স্বীকার হচ্ছেন। এটি একটি কালো আইন। আমরা এ আইনের ১২০ ধারা বাতিলের দাবি জানাচ্ছি।

ই-কমার্স ও অনলাইন শপিংয়েল ওপর কর নির্ধারণের প্রস্তাব করে বলা হয়, ই-কমার্স ও অনলাইন শপিংকে আয়কর আইনের আওতায় আইটিইএসের অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করছি। এক্ষেত্রে তাদের লাভ-লোকসান নির্বিশেষে মোট প্রাপ্তির শূন্য দশমিক তিন শতাংশের পরিবর্তে শূন্য দশমিক এক শতাংশ কর নির্ধারণের প্রস্তাব করছি।

আর এক প্রশ্নের জবাবে শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন আরও বলেছেন, ‘আমরা ব্যবসা করি। রাজনীতি করি না।’

রাজধানীর মতিঝিলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য রাখেন- সংগঠনের সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম (মহিউদ্দিন), সিনিয়র সহ সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, পরিচালক শমি কায়সারসহ সংগঠনের বিভিন্ন প্রতিনিধিরা।

*রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন*
সম্পর্কিত সংবাদ
Leave a reply
ডেস্ক রিপোর্ট