তিন সিটি নির্বাচন: বিএনপির মেয়রপ্রার্থী বুলবুল, আরিফ ও মুজিবর রহমান

তিন সিটি নির্বাচন: বিএনপির মেয়রপ্রার্থী বুলবুল, আরিফ ও মুজিবর রহমান

রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় প্রার্থীর সম্ভাব্য তালিকা তৈরি করেছে বিএনপি। রাজশাহীতে বর্তমান মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের উপরে আবারও ভরসা রাখছে দলটি। বরিশালে মুজিবুর রহমান সারোয়ারের মনোনয়ন পাওয়ার উজ্বল সম্ভবনা রয়েছে। তবে কেউ কেউ আবার বর্তমান মেয়র আহসান হাবীব কামালের কথাও বলছেন। অন্যদিকে সিলেটে মেয়র প্রার্থী বাছাই নিয়ে কিছুটা জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর মনোনয়ন পাওয়া সম্ভবনা থাকলেও বেশিরভাগ প্রার্থী তার বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। ফলে সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম মনোনয়ন পেতে পারেন বলেও আলোচনা উঠেছে।

বৃহস্পতিবার বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যরা তিন সিটির প্রার্থী চূড়ান্ত করেন বলে সূত্রে জানা গেছে। প্রায় ৩ ঘন্টাব্যাপী সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে ধানের শীষে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়।

রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে ধানের শীষে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থী হলেন, বর্তমান মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। ওখান থেকে ধানের শীষে দলীয় মনোনয়নপত্র আর কেউ তুলেনি। যার ফলে আবারও বুলবুলের উপরে ভরসা রাখছে বিএনপি।

সাক্ষাৎকার শেষে মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল সাংবাদিকদের বলেন, রাজশাহীতে জাতীয়তাবাদী শক্তি ঐক্যবদ্ধ। তাই আগামী সিটি নির্বাচনে আমরা জয়লাভ করবো বলে প্রত্যাশা করছি। খুলনা সিটি নির্বাচনের মত রাজশাহীতে ভোট ডাকাতি হবে না বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে বরিশাল থেকে ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন প্রত্যাশী ৯ জন। তারা হলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মুজিবুর রহমান সারোয়ার, আহসান হাবীব কামাল, দক্ষিণ জেলা সভাপতি এবায়দুল হক চাঁন, কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন, ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আফরোজা খানম নাসরিন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, সাবেক ছাত্রদল নেতা আলী হায়দার বাবু, জিয়াউদ্দিন শিকদার এবং আবুল কালাম শাহিন।

তবে মুজিবুর রহমান সারোয়ার বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদের জন্য দলীয় মনোনয়নপত্র ক্রয় করেননি। এবিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকেও কিছু জানানো হয়নি।

জানতে চাইলে মুজিবুর রহমান সারোয়ার বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচন করার আগ্রহ ছিল আমার। যার জন্য এই নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে আমি ফরম তুলিনি। বরিশাল মহানগরের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা আমার জন্য ফরম ক্রয় করেছেন। এর জন্য আমাকে ডাকা হয়েছিল। তাই আমি বোর্ডে এসেছিলাস। এখন আলোচনা এবং সিদ্ধান্ত হবে। তবে দল যে সিদ্ধান্ত নেবে সেটা আমি মাথা পেতে নেবো।  কিন্তু দল যদি চিন্তা-ভাবনা করে তাহলে আমি প্রার্থী হচ্ছে ইচ্ছুক।

অপরদিকে সিলেটের বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম, সহ-সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি হাজী কাইয়ুম জালালী পংকী এবং মহানগর নেতা ছালাহ উদ্দিন রিমন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।

জানতে চাইলে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, দল যে সিদ্ধান্ত দেবে, সেই সিদ্ধান্তই মেনে নেবো। আর দল থেকে যাকে মনোনয়ন দেওয়া তাকে নিয়েই আমরা কাজ করবো।

মনোনয়ন বোর্ডে ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ড. মঈন খান, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ১০ থেকে বিকেল সাড়ে ৪ টা পর্যন্ত নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী হাতে ২৫ হাজার টাকা দিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।

গতকাল বুধবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ধানের শীষ মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ১০ হাজার টাকা দিয়ে মনোনয়নপত্র ক্রয় করেন।

আগামী ৩০ জুলাই রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হবে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৮ জুন। প্রার্থীতা প্রত্যাহার করা যাবে ৯ জুলাই পর্যন্ত।

*রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন*
সম্পর্কিত সংবাদ
Leave a reply
ডেস্ক রিপোর্ট