মহাশ্বেতা দেবী আর নেই

মহাশ্বেতা দেবী আর নেই

উপমহাদেশের প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী মহাশ্বেতা দেবী মারা গেছেন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ৩টার দিকে দক্ষিণ কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

বিশিষ্ট এই সাহিত্যিকের বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। দীর্ঘ দিন তিনি হাসপাতালেই ছিলেন। বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যা ছাড়াও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন মহাশ্বেতা দেবী।

তার মৃত্যু সংবাদে গভীর শোকের ছায়া নেমেছে কলকাতায়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টুইটারে লিখেছেন, ‘ভারত এক মহান লেখিকাকে হারাল, বাংলা এক মহান মাকে হারাল। আমি একজন ব্যক্তিগত পথপ্রদর্শককে হারালাম। মহাশ্বেতাদি শান্তিতে থাকুন।’

শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, বর্তমান সময়ে ভারতের সবচেয়ে প্রবীণ সাহিত্যিকদের অন্যতম ছিলেন মহাশ্বেতা দেবী। জ্ঞানপীঠ, পদ্মশ্রী, পদ্মবিভূষণ ছাড়াও ফিলিপাইনের র‌্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কারেও ভূষিত হয়েছেন তিনি।

মহাশ্বেতা দেবী ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দে বর্তমান বাংলাদেশের ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সাঁওতাল ইত্যাদি উপজাতিদের ওপর কাজ এবং লেখার জন্য বিখ্যাত। তিনি জ্ঞানপীঠ পুরস্কার পেয়েছেন। তাঁর লেখা শতাধিক বইয়ের মধ্যে ‘হাজার চুরাশির মা’ অন্যতম। বাবা মণীশ ঘটক ছিলেন নামি কবি ও লেখক। কল্লোল আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। মা ধরিত্রী দেবীও একাধারে লেখিকা এবং সমাজসেবী ছিলেন। মহাশ্বেতা দেবীর ছোট কাকা ছিলেন বিশিষ্ট চিত্র পরিচালক ঋত্বিক ঘটক। স্কুলের পড়াশোনা ঢাকা শহরে হলেও, দেশভাগের সময়ে পরিবারের সঙ্গে তিনি চলে আসেন পশ্চিমবঙ্গে। শান্তিনিকেতন থেকে তিনি ইংরেজিতে অনার্স নিয়ে বিএ পাস করেন। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শেষ করেন এমএ। বিখ্যাত নাট্যকার বিজন ভট্টাচার্যের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। ১৯৪৮ সালে জন্ম হয় একমাত্র সন্তান নবারুণ ভট্টাচার্যের। ১৯৭৯ সালে তাঁকে সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার দেওয়া হয়। ১৯৮৬ সালে তাঁকে পদ্মশ্রীতে ভূষিত করা হয়। ২০১১ সালে তাঁকে পদ্মবিভূষণে সম্মানিত করা হয়। এরপর একে একে তিনি পেয়েছেন বহু স্বীকৃতি, পুরস্কার। তার মধ্যে রয়েছে জ্ঞানপীঠ পুরস্কার (১৯৯৬), ম্যাগসেসে পুরস্কার (১৯৯৭), বঙ্গবিভূষণ পুরস্কার (২০১১)। সাহিত্যে অবদানের জন্য তাঁকে ২০০৭ খ্রিষ্টাব্দে সার্ক সাহিত্য পুরস্কার প্রদান করা হয়। –

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট